আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের ব্লাত ও ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় একাধিকবার আকাশ থেকে হামলা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় সূত্র ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
আল জাজিরার বরাতে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কারণ অধিকাংশ হামলাই বনাঞ্চল ও পাহাড়ঘেরা খোলা স্থানে চালানো হয়েছে। তবু দক্ষিণ লেবাননের আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিন জানিয়েছে, ইকলিম আল-তুফাহর উচ্চভূমিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ আল-মানার টেলিভিশন জানায়, মারকাবা শহরে ইসরায়েলি চার পাখার ড্রোন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ছিলেন ১৬ বছর বয়সী এক সিরীয় কিশোর, তাঁর নাম হোসেন মহসিন আল-খালাফ।
জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত সপ্তাহেও বেকা উপত্যকা এবং সিডন শহরের কাছে আইন আল-হিলওয়াহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন।
এদিকে ইসরায়েল এখনও লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর ফলে সীমান্ত অঞ্চলের গ্রাম পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, তারা লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রথম ধাপ প্রায় সম্পন্ন করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের জন্য আরও চার মাস সময় প্রয়োজন। তবে হিজবুল্লাহ এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরস্ত্রীকরণ শর্ত কেবল লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য।
হিজবুল্লাহ আরও বলেছে, ইসরায়েল যতদিন লেবাননের ভূখণ্ডে হামলা চালাবে বা দখল করে রাখবে, ততদিন তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।
দক্ষিণ লেবাননে এই নতুন করে হামলার পাশাপাশি একই দিনে ইরানেও ইসরায়েলি বাহিনী আকস্মিক হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au