যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” শুরু করেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” শুরু করেছে। তাঁর এই ঘোষণার পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ প্রকাশিত প্রায় আট মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই অভিযানে জড়িত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা বারবার সমঝোতার চেষ্টা করেছি। আমরা চুক্তি করতে চেয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মানতে রাজি হয়নি।”
ওই বক্তব্যে তিনি ইরানের নাগরিকদের ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ইরানের ক্ষমতার পালাবদলেরও ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। আগের দিন শুক্রবারও তিনি বলেছিলেন, হামলার বিষয়ে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত নয়।
ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প আরও কড়া ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।”
হোয়াইট হাউসের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্বীকার করেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ হলে সব সময়ই ঝুঁকি থাকে। ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে।”

ইরানে হামলার দাবি ইসরায়েলের, তেহরানে বিস্ফোরণ। ছবিঃ বিবিসি
পাঁচ শহরে বিস্ফোরণের খবর
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, তেহরান, ইসফাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত দুটি স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আক্রান্ত ইরান, আকাশসীমা বন্ধ। ছবিঃ সংগৃহীত
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সপ্তাহের শুরুর দিকে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। উভয় পক্ষই তখন জানিয়েছিল, সমঝোতার পথে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছিল।
ট্রাম্প আগেও একাধিকবার বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তাঁর সর্বশেষ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অবস্থানই বাস্তবে রূপ পেল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের ঘোষণার পর ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন এই পরিস্থিতি অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্রঃ বিবিসি