মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- তামিল সুপারস্টার এবং তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়ের দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্যজীবনে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ের চেঙ্গলপট্টু জেলা আদালতে বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন তার স্ত্রী সংগীতা।
পিটিআই সূত্রে খবর, এই আবেদনে বিজয়ের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সংগীতার দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে তিনি বিজয়ের জনৈক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন, যা তার মনে গভীর যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।
অভিযোগ উঠেছে যে, সম্পর্কটি মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দিলেও বিজয় তা বজায় রেখেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত মানসিক নিষ্ঠুরতা এবং সামাজিক অমর্যাদার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিজয়ের পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ২০২২ সালে পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বিজয় তার স্ত্রীকে একজন ‘কঠোর সমালোচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বিজয়ের বাবা, পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখরও একসময় জানিয়েছিলেন যে, বিজয় বাইরের কারোর কথা খুব একটা না শুনলেও সংগীতার মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং সংগীতা সব সময় বিজয়ের কাজের ওপর ‘কড়া নজর’ রাখতেন। সেই সময়কার সেই প্রশংসাসূচক ‘কড়াকড়ি’ আজ বিচ্ছেদের আবহে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া পিটিশন থেকে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একাধিকবার আইনি এবং পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সংগীতা জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে এখন কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ এবং তা পুনরুদ্ধারের আর কোনো পথ নেই। তিনি স্থাবর সম্পত্তির অধিকার এবং খোরপোশ দাবির পাশাপাশি গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে ক্যামেরার সামনে রুদ্ধদ্বার শুনানির আবেদন জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই এই দম্পতি আলাদা থাকছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে এক ভক্ত হিসেবে বিজয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে প্রেমে পড়েছিলেন লন্ডনের শিল্পপতির মেয়ে সংগীতা। ১৯৯৯ সালে ঘটা করে বিয়ে করা এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ সময় মিডিয়ার আড়ালে সুখে সংসার করলেও বিজয়ের রাজনৈতিক সফরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বিচ্ছেদের খবর দক্ষিণী রাজনীতি ও বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন ব্যক্তিগত জীবনের এই সংকট বিজয়ের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি