ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়ার তালিকায় যাদের নাম , ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ০১ মার্চ- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে আলেমদের পরিষদ। তবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে ইতোমধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস ও আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারের নজির নেই। এছাড়া তিনি উচ্চ পর্যায়ের মারজায়ে তাকলিদ নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার আনুষ্ঠানিক ভূমিকা সীমিত।
৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তিনি আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল–এর সদস্য। ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও তিনি প্রধান। ধর্মীয় মর্যাদা থাকলেও রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে তার প্রভাব তুলনামূলক কম।
৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি আলেমদের পরিষদের সদস্য এবং কোম শহরের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান। পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য রক্ষণশীল মহলে তার সমর্থন রয়েছে।
৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–র নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক। তুলনামূলকভাবে উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশাসন বা সামরিক কাঠামোয় তার সরাসরি ভূমিকা নেই।
ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি ইরানের জ্যেষ্ঠ আলেমদের একজন এবং আলেম পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার প্রভাব সীমিত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নির্ভর করবে আলেম পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর। রাজনৈতিক ভারসাম্য, সামরিক সমর্থন এবং ধর্মীয় মর্যাদা—এই তিনটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : সিএনএন