সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
কাউকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। কাউকে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে। কোথাও কোথাও আবার কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। কারো কারো গলায় পরানো হচ্ছে জুতার মালা। বেড়েছে ধর্ষণ, হানাহানি ও সংঘর্ষ। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মব।
সংঘবদ্ধ কিছু মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘মব জাস্টিস’ বলা হয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে দুর্বল বা অন্যায় বলে মনে করা হলে প্রাচীন গ্রিস ও রোমে মব জাস্টিস দেখা যেত। তবে বাংলাদেশে ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তী সরকার গঠিত হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় থানা-পুলিশ ও আদালতের কার্যক্রম। তবু বিভিন্ন স্থানে মবের বিশৃঙ্খলা কমেনি বলে মত অনেকের।
রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ছিনতাইকারী সন্দেহে গেল রোববার আটজনকে গণপিটুনি দেয়া হয়। তাদের চারজন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকায় চারজনকে, চকবাজারে দুজনকে, মতিঝিল ও ভাটারায় দুজনকে গণপিটুনি দেয়া হয়।
সম্প্রতি গুলশানের একটি বাসায় তল্লাশির নামে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ, অস্ত্র ও আওয়ামী লীগের দোসররা লুকিয়ে আছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে দরজা ভেঙে বেশ কয়েকজন লোক ঢুকে পড়ে। বলা হয়, বাসাটি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে তানভীর ইমামের। পরে জানা যায়, বাড়িটি তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর। ২৭ বছর আগে তাদের বিচ্ছেদও হয়। এ ঘটনায় পরে তিনজনকে আটক করা হয়।
সেদিন দুপুরে ‘মব’ করে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ইরানের দুই নাগরিকসহ তিনজনকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে এই দুই বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় মব তৈরি করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ইউসুফ আলীকে হেনস্তা ও মারধর করে কিছু মাদকসেবী। এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর চোর সন্দেহে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
একটি সাজানো বাগান তছনছ করতে যেমন একটি দুষ্ট বানরই যথেষ্ট, তেমনি একটি বিরাট অর্জনও ধ্বংস করতে পারে একটি বিচ্যুতি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব অর্জনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ‘মব’। সচেতন মহলে এখন এমনই আলোচনা।দুষ্কৃতিকারীরা যদি সমাজে আধিপত্য বজায় রাখবে, তাহলে সরকার কীসের জন্য? সম্প্রতি নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সভায় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রশ্ন তোলেন।
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘গত সাত-আট মাসের যে যেখানেই ঝামেলা করেছে, যে যেখানে মব জাস্টিস করেছে—আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় আছে। আমরা বলেছি আরও প্রো-অ্যাকটিভ ওয়েতে সবকিছু নজরদারিতে আনার জন্য। আজকে থেকে আমরা সমন্বিতভাবে সব তথ্য সংগ্রহ করে, যে অপরাধী তাকে আমরা ওখানেই গ্রেপ্তার করব। আমরা একদিন অপেক্ষা করব না। ওখান থেকেই তুলে নিয়ে আসব।’
মব জাস্টিসের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আমরা প্রত্যেকেই আপনাদের মতো ডিস্টার্ব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আমাদের আরও অনেক কঠোর হতে হবে। এখান থেকে যেকোনো ধরনের মব জাস্টিসকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।’
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কমছে না। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৬ জন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au