ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। ছবিঃ ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেইজ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ মার্চ- বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, পারস্পরিক কল্যাণ ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায় ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। একই দিন তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সাইবার অপরাধ দমন, ভিসা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ বিনিময় ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।ছবিঃ ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেইজ
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নয়। তিনি জানান, সরকার পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে চায় এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ক নবায়ন করতে আগ্রহী। দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখা উচিত।
ভারতের হাইকমিশনার বৈঠকের শুরুতে নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশ ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন প্রেক্ষাপটে আরও সুদৃঢ় করতে একসঙ্গে কাজ করবে।
ভিসা ইস্যু বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালু করা এবং ভিসা প্রদানের হার বাড়ানোর অনুরোধ জানান। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, গত দেড় বছরে বিভিন্ন ভিসা সেন্টারে মব হামলা, বিক্ষোভ ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং ভিসা প্রদান কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে ভিসা সেন্টারগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ভিসা প্রদানের হার বাড়ানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারসহ সব ভারতীয় স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। এ সময় হাইকমিশনার জানান, ভারতীয় ভিসার আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হয় এবং ওয়েবসাইট হ্যাকের চেষ্টা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি অনুরোধ করলে মন্ত্রী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে প্রাণহানি দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এ সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নেও ভারতের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার। তিনি ভারতের আইটিইসি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ পাঠানো হবে।
বৈঠকে বন্দি বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার নিয়েও আলোচনা হয়। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পাওনকুমার তুলসিদাস, কাউন্সেলর অভিজিত সপ্তঋষি ও প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে আরও বাস্তবমুখী ও জনগণকেন্দ্রিক ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চায় ভারত, যেখানে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।