ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না।
সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি এ অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো চাপের মুখে আলোচনায় যাবে না।
তার এই বক্তব্যের আগে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে লারিজানির সরাসরি অস্বীকৃতির পর সেই গুঞ্জন কার্যত নাকচ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংঘাত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে এই হামলা চালানো হয়। আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর বৈরুত সরাসরি তেল আবিবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন পরিস্থিতিকে ‘প্রক্সি সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করে তার দেশকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লেবাননের মাটিকে আঞ্চলিক শক্তির লড়াইয়ের ক্ষেত্র বানানো হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।
এর আগে সোমবার সকালে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করে ইসরায়েল। সতর্কবার্তায় বলা হয়, হিজবুল্লাহর স্থাপনা বা সামরিক সম্পদের আশপাশে অবস্থান করলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই বাসিন্দাদের অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে খোলা স্থানে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল এক জরুরি ভিডিও বৈঠকে মিলিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ ছয় সদস্য দেশ জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। বৈঠকে ইরানের কর্মকাণ্ডকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে মার্কিন জনমতেও বিভাজন দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স ও ইপসস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত শনিবারের হামলার পর মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা সরাসরি এর বিরোধিতা করেছেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ৫৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার নামে সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ইস্যু মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্রঃ রয়টার্স