আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর এখনো যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর আঘাত’ হানেনি এবং বড় ধরনের হামলা বাকি রয়েছে। শিগগিরই ‘মূল আক্রমণ’ চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর কঠোর আঘাত শুরুই করিনি। বড় হামলা এখনো আসেনি। মূল আক্রমণটি শিগগিরই আসছে।”
ইরানি জনগণকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে সামরিক পদক্ষেপের বাইরে অন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ‘হ্যাঁ’ বলেন। তিনি জানান, “আমরা সত্যিই তা করছি। তবে এই মুহূর্তে আমরা চাই সবাই নিরাপদ স্থানে থাকুক। বাইরে পরিস্থিতি নিরাপদ নয়।” পরিস্থিতি আরও অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে কাতার দাবি করেছে, তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুটি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরান থেকে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে না। তবে এই অভিযানের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক।
সোমবার চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন–এর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, “এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়। তবে শাসনব্যবস্থা যে বদলে গেছে, তা নিশ্চিত।”
তার দাবি, ইরান শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করছিল এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রক্ষায় সেগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল বা ভান্ডার ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাজ্য এ অনুরোধে সম্মত হয়েছে।
স্টারমার বলেন, “ইরান যাতে এই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে, সে জন্য আমি এই অনুরোধে সায় দিয়েছি।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। তার ভাষ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্য ইরানের ইসফাহান শহরের একটি পারমাণবিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটির কাছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও আল জাজিরা।
এর আগে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার খবর আসে। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের দূত রেজা নাজাফি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নাতাঞ্জ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ‘মূল আক্রমণ’ শিগগিরই আসছে বলে যে বার্তা দিয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au