মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিকদের এখনই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার দেশটির নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এখনই ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। এই পরামর্শ ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়েছে। পরামর্শপ্রাপ্ত দেশগুলো হলো: বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন (পশ্চিম তীর ও গাজা), জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেই হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েলে হামলা চালাতে শুরু করে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ অন্যান্য স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস মঙ্গলবার সব কনস্যুলার সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সব নিয়মিত ও জরুরি সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে এবং রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরামসহ সব মিশনে ‘নিরাপদ অবস্থানে থাকার’ নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে। নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, দূতাবাসের ভবন ও সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় ভবনটিতে সামান্য আগুন ধরে যায় এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই হামলার জবাবে ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, “আপনারা খুব দ্রুতই দেখতে পাবেন, আমরা কী করব।”
পাকিস্তানেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে। এই নির্দেশনা লাহোর ও করাচিতে অবস্থিত কনস্যুলেটগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। বাতিলের সময়সীমা আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গত রোববার করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা