‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- সৌদি আরবের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা শোধনাগার ও টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং কাতার থেকে আসা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন প্রতি বছর সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড তেল আমদানি করে। বিপিসির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ৩ মার্চের মধ্যে এক লাখ টন তেল একটি জাহাজে লোড করার কথা ছিল। তবে শোধনাগার বন্ধ থাকায় জাহাজে তেল ভরা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল করায় সময়মতো বাংলাদেশে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট তেল আমদানি-প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত, যা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল চীন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসায় সেখানে বড় কোনো ঝুঁকি নেই। তবে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি:
ডিজেল: ২ লাখ ১৭ হাজার ৩১৭ টন (১৪-১৫ দিনের চাহিদা)
পেট্রল: ২১ হাজার ৭০৫ টন (১৭ দিনের চাহিদা)
অকটেন: ৩৪ হাজার ১৩৩ টন (৩১ দিনের চাহিদা)
ফার্নেস অয়েল: ৭৮ হাজার ২৭৮ টন (প্রায় ২ মাসের চাহিদা)
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি খাতের বোরো সেচ এবং পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া তেলের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ মাত্র ২৬৫ কোটি ঘনফুট। কাতার থেকে এলএনজি মূলত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। ইরানের আক্রমণের কারণে কাতার এলএনজি উৎপাদন সীমিত রাখায় সরবরাহে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার মতে, ১২ মার্চ পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তবে নতুন কার্গো এসে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হলে মার্চ মাসের শেষ দিকে গ্যাস সংকট তীব্র হতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, হরমুজ প্রণালির সাময়িক বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au