আমেরিকার রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ মার্চ- ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘ট্রু প্রমিজ ৪’-এর প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং সেখানকার যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলার ফলে মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নায়েইনি আরও দাবি করেন, বাহরাইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলায় ১৬০ জন মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানি নৌবাহিনীর নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এই হামলার পর রণতরীটি ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে সরে গিয়ে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানি বাহিনী ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের হতাহতের সংখ্যা অস্বীকার বা গোপন করার চেষ্টা করতে পারে, তবে ইরানের গোয়েন্দা তথ্য ও যুদ্ধক্ষেত্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আগ্রাসনের জবাব হিসেবে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান নায়েইনি। তিনি এটিকে ইরানি সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং হতাহতের সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।