পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মিনুটম্যান-৩ এর পরীক্ষা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ যখন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মিনুটম্যান-৩ এর পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মহাকাশ বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে এই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান বাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড নিরস্ত্র মিনুটম্যান-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করে। এতে দুটি পরীক্ষামূলক পুনঃপ্রবেশযান সংযুক্ত ছিল। পরীক্ষামূলক এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরিচিতি নম্বর ছিল জিটি-২৫৫। এটি দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা একটি নিয়মিত মূল্যায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং চলমান ইরান যুদ্ধের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
মিনুটম্যান-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়েক হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে পশ্চিম-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কাছে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পৃথক উপাদানগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।
৫৭৬তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্যারি রে বলেন, বিভিন্ন মিশন প্রোফাইল নিয়মিতভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে পুরো আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহরের সক্ষমতা আরও উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে স্থলভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়।
মিনুটম্যান-৩ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম প্রধান উপাদান। এর পাল্লা প্রায় ছয় হাজার মাইল এবং ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইলের বেশি গতিতে এটি ছুটতে পারে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো সম্ভব। এই ক্ষেপণাস্ত্র এমন ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যার ক্ষমতা হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি।
মার্কিন মহাকাশ বাহিনী জানায়, কয়েক দশক ধরে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন কর্মসূচির আওতায় তিন শতাধিক অনুরূপ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য স্থলভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, নির্ভুলতা ও প্রস্তুতি যাচাই করা। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও মিনুটম্যান-৩ এর একটি পরীক্ষা চালানো হয়, যখন ওয়াশিংটনে পারমাণবিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
এদিকে ইরান যুদ্ধ ষষ্ঠ দিনে প্রবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার ইরান ইসরায়েলের দিকে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে দেশটির বড় বড় শহরে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে এবং লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যায়। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিমান অভিযান সীমিত করার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবটিতে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছিল। তবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ভোট দিয়ে প্রস্তাবটি নাকচ করেন। ৫৩-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়, যা মূলত দলীয় লাইনে বিভক্ত ছিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা বহাল থাকে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে