সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে সাত দিন ধরে আটকা আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে সাত দিন ধরে আটকা আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’, যাতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক কাজ করছেন। প্রতিদিনই বন্দরের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর শোনা যাচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখে জাহাজের নাবিকরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “জান হাতে নিয়ে আছি।” তিনি জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি জেবেল আলী বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে নোঙ্গর করে। সেখানে স্টিল কয়েল খালাসের কাজ চলছে। তিনি বলেন, “আমরা জাহাজ নিয়ে বন্দরে আসার পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত শনিবার জাহাজের দুইশ মিটার দূরে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলা হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আনাগোনা এবং মাঝে মাঝে বিস্ফোরণের শব্দ শুনছি।”
শফিকুল জানান, শুরুতে নাবিকেরা ভয় পেয়েছিলেন, কিন্তু ধীরে ধীরে সবাই নিজেরা ধাতস্ত হয়েছেন। জাহাজে এখনো নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত পানি, খাবার এবং জ্বালানি তেল আছে। বাংলাদেশ সরকার, বিএসসি এবং আমিরাতের দূতাবাস নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং যে কোনো ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ছবিঃ সংগৃহীত
জাহাজটি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮,৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি জেবেল আলী বন্দরের বর্হি নোঙ্গরে আসে। পরদিন ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে, এবং তিনদিন পর পণ্য খালাস শুরু হয়। খালাসের পর জাহাজটি আবার কাতারে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে জাহাজের পরবর্তী গন্তব্য অনিশ্চিত।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই জাহাজটি ১০ মাসের জন্য বিদেশি একটি কোম্পানিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস চললেও ভবিষ্যতে নাবিকদের কোথায় কাজ করতে হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “কার্গো খালাস শেষ হলে জাহাজ ভাড়া নেওয়া কোম্পানি পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ করবে। জেবেল আলী বন্দর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় বন্দর। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০০টি জাহাজ আছে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হলে নাবিকরা নিরাপদ স্থানে চলে যাবে।”
শফিকুল ইসলাম ১৮ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি চাঁদপুরে, যেখানে স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছেন। তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরিবারের সকলেই উদ্বিগ্ন। নাবিকরা প্রতিদিন ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যাতে তাদের মনোবল চাঙ্গা থাকে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচারক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, “নাবিকরা ভালো আছেন। কার্গো খালাস তৃতীয় দিন চলছে এবং শেষ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং করণীয় বিষয়ে অবহিত করছি।”
সূত্র: বিডিনিউজ২৪