সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে সমাজের একটি অংশ নারীর সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে স্পষ্ট বিরোধিতায় অবস্থান নেয়। সেই শক্তির কিছু অংশ রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় ছিল। তবে সরকারের লক্ষ্য ছিল, তারা যেন মূলধারায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ওয়ান-এর বিশেষ আয়োজন ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নয়নাদিত্যর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। কোথাও মাজারে হামলা, কোথাও বাউলদের ওপর নির্যাতন, আবার নারীদের নিয়ে কটূক্তির মতো ঘটনাও সামনে আসে। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি সরকারের জন্য অত্যন্ত চাপের ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, একদিকে ছিল বিশৃঙ্খল পরিবেশ, অন্যদিকে ছিল সরকারের নীতিগত অবস্থান ও মূল্যবোধ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও সরকার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এতটা নারীবিদ্বেষী ভাষা আগে শোনেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণেই তাকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের প্রবণতা সমাজে বিদ্যমান এক ধরনের গভীর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নারীবাদের কোনো বিরোধ নেই। বরং নারীর অধিকার সুরক্ষায় সরকার দুটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। একটি পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে এবং অন্যটি কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ঠেকাতে প্রণীত হয়েছে।
জেল থেকে উগ্রবাদীদের মুক্তি পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, উগ্রবাদী শক্তি সমাজে আগে থেকেই ছিল এবং সুযোগ পেলেই তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তারা কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারেনি। যারা নারীর অধিকার ও সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব যাতে মূলধারায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে না পারে, সেটিই ছিল সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।