সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন তাঁর স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান। মামলায় একই দপ্তর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই শিক্ষক ও এক সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দায়ের করা এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তিনি জানান, চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন। তাঁদের প্ররোচনায় খন্দকার ফজলুর রহমান ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসমা সাদিয়ার দপ্তরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে, তবে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
গত বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দপ্তরে আসমা সাদিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নিহত শিক্ষিকার মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্তে আসমার শরীরে ধারালো অস্ত্রের ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম জানান, গলার নিচে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এছাড়া বুক, পেট, হাত ও পায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতের ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তি হয়েছিল এবং আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে হাতে আঘাত লেগেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে ফজলুর রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আসমা সাদিয়া বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সভাপতির সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝে পাননি। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিলে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস তাঁকে নির্দিষ্ট কাগজে শুধু স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়। আসমা এতে আপত্তি জানান এবং অর্থের অপব্যবহার না করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। এরপর থেকে তাঁকে অসহযোগিতা ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সভাপতিকে অসহযোগিতার অভিযোগে কয়েক মাস আগে ডিনের নির্দেশে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাবিবুর রহমান। অপরদিকে বিভাগের অর্থ তছরুপের ঘটনায় বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বদলি করা হয়। এরপর থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফজলুর রহমান গভীর রাতে সাড়া দেন। চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্র জানায়, তিনি ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন এবং কলম দিয়ে লিখতেও পারছেন। পুলিশের কাছে দেওয়া দুই পাতার লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, বিভাগীয় প্রধান তাঁকে বদলি করা এবং বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন একই বিভাগে কাজ করার পর বদলি ও বেতন বন্ধ হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সেখান থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন।
অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার বলেন, সহকর্মীর মৃত্যুতে তাঁরা শোকাহত। তাঁর সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক ছিল না যে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সত্য সামনে আসবে। শিক্ষক হাবিবুর রহমানও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি নিজের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তি মেনে নেবেন।
বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর কুষ্টিয়া ঈদগাহ মাঠে আসমা সাদিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, সহ-উপাচার্য ইয়াকুব আলীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে আসমার স্বামী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং কখনও দায়িত্বে অবহেলা করেননি।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা হত্যাকারীর দ্রুত বিচার ও নেপথ্যে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্মার্ট পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিতসহ একাধিক দাবি তুলে ধরেছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au