আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে, ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের চালান ভারত কিনতে পারবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এই অস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সাময়িক ছাড় অনুযায়ী, যেসব রুশ তেলের চালান আগে থেকেই ট্যাংকারে তুলে সমুদ্রে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কারণে ক্রেতা না পেয়ে আটকে ছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতে বিক্রি করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি কমবে এবং বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগে এসব তেলের চালান ট্যাংকারে তোলা হলেও পরে নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ায় অনেক চালান সমুদ্রেই আটকে যায়। ফলে সেগুলো বিক্রি করা যাচ্ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্থায়ী ছাড়ের ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেসব চালান ভারতে খালাস করে বিক্রি করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ বিষয়ে বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁর ভাষায়, ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতেই এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে ভারত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল আমদানি করবে। তাঁর মতে, এই সাময়িক ছাড় শুধু সমুদ্রে থাকা তেলের চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এতে রাশিয়া বড় কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মজুত তেল দিয়ে মাত্র প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। দেশটি যে তেল আমদানি করে তার প্রায় ৪০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং এসব তেলের বড় অংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বর্তমানে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কম দামে রুশ তেল কেনার অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। তবে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কিছুটা কমিয়ে দেয় নয়াদিল্লি। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর ফলে সম্ভাব্য ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঝুঁকি এড়াতে পেরেছে ভারত এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি করার পথও সুগম হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো ইতোমধ্যে রুশ তেল কেনার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ভারতীয় তেল করপোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং মাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড দ্রুত সরবরাহের জন্য রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলো ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনে ফেলেছে। কিছু শোধনাগারের জন্য এটি আবারও রাশিয়ার সরবরাহে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত। শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও মাঙ্গালোর রিফাইনারি সর্বশেষ গত নভেম্বর মাসে রাশিয়া থেকে তেলের চালান পেয়েছিল।
ব্যবসায়ীরা বর্তমানে রাশিয়ার ইউরালস শ্রেণির অপরিশোধিত তেল ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের তুলনায় ৪ থেকে ৫ ডলার বেশি দামে প্রস্তাব করছে। মার্চ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে পৌঁছাবে এমন চালানের জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া ভারতের বড় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও দ্রুত রুশ তেলের চালান নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
দামের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে একই ধরনের চালান ব্রেন্টের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৩ ডলার কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম সেই সময় দুইটি চালান কিনেছিল, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর ঠিক আগে নেওয়া হয়েছিল।
রাশিয়ার তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত এক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে ভারতীয় শোধনাগারগুলো আবার বাজারে সক্রিয় হয়েছে। তবে এখন দামের চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান সম্পূর্ণভাবে আটকে দিলে বিশ্ববাজার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ কমে যেতে পারত। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারত। তাই এই চালানগুলো ভারতে পৌঁছানোর সুযোগ দিয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au