আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে সমুদ্রপথে ইরানের নৌ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি একটি ড্রোনবাহী জাহাজও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ড্রোনবাহী জাহাজটি বর্তমানে আগুনে পুড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তার মতে, সমুদ্রপথে এবং আকাশপথে ধারাবাহিক সামরিক চাপের কারণে ইরানের হামলার সক্ষমতা অনেকটাই কমে এসেছে।
এদিকে শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, তাদের উপকূলে অবস্থান করা একটি ইরানি নৌযানের নিয়ন্ত্রণ তারা নিজেদের হাতে নিয়েছে। ইরানের আইআরআইএনএস বুশেহর নামের ওই জাহাজটি বুধবার শ্রীলঙ্কার কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানায়, এর একটি ইঞ্জিনে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং সে কারণে জরুরি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কার কোনো বন্দরে ভেড়ার অনুমতি প্রয়োজন। পরে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর জাহাজটিকে ত্রিনকোমালে বন্দরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই জাহাজে থাকা ২০৮ জন নাবিক ও কর্মকর্তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট কর্মকর্তা, ৪৮ জন ঊর্ধ্বতন নাবিক এবং ২৩ জন সাধারণ নাবিককে রাজধানী কলম্বোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি ত্রিনকোমালে বন্দরে অবস্থান করছে।
শ্রীলঙ্কা সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে তারা কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেয়নি। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিপদগ্রস্ত নাবিকদের সহায়তা করা তাদের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছে দেশটি।
এর আগে বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮১ কিলোমিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডুবোজাহাজের টর্পেডোর আঘাতে ইরানের আইআরআইএস দেনা নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। ওই ফ্রিগেটটি বঙ্গোপসাগরে একটি বহুজাতিক নৌ মহড়ায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ও কর্মকর্তা ছিলেন।
শ্রীলঙ্কার উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া কয়েক ডজন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অনেকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে তা এক ধরনের বর্বরতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একসময় তিক্ত অনুশোচনায় ভুগতে হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক উপস্থিতি দুর্বল করতে এই ধরনের অভিযান প্রয়োজন ছিল।
মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের সমুদ্র অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ এখন গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au