সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা বলছেন, অবিরাম বিস্ফোরণে কাটছে তাদের রাত, যা সাম্প্রতিক দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক বাহিনী, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আবারও ইরানের বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের দেশকে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করার।” একই সঙ্গে ইরানি কূটনীতিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প একটি কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন— “সম্পূর্ণ নিরাপত্তা অথবা নিশ্চিত মৃত্যু।”
এদিকে নতুন প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বাহরাইনের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহ দৃশ্য। বাহরাইনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি বাপকো পরিচালিত এই শোধনাগারটি রাজধানী মানামার দক্ষিণে সিত্রা দ্বীপে অবস্থিত। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেল তেল এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।
সরকার জানিয়েছে, হামলার পর সৃষ্ট আগুন এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাহরাইন ছাড়াও নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে আজারবাইজান। দেশটি অভিযোগ করেছে, একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি স্কুল ও বিমানবন্দরের ক্ষতি হয়েছে এবং তারা এটিকে ইরানের “কুৎসিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মধ্য এশিয়ার মুসলিম প্রধান দেশ আজারবাইজানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই এবং এতদিন পর্যন্ত তারা এই সংঘাতে জড়িত ছিল না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় মানবিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটির জরুরি কার্যক্রম প্রধান আয়াকি ইতো জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংকটকে আমরা একটি বড় মানবিক জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করেছি।”
তিনি বলেন, অঞ্চলে হামলা ও বেসামরিক জনগণের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০১৫ সালে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দশ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছিল, যা বড় শরণার্থী সংকট তৈরি করেছিল।
সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী জোহান ফরসেল বলেছেন, আপাতত ইউরোপে নতুন শরণার্থী ঢলের আশঙ্কা নেই, তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।
“দশ বছর আগের মতো আরেকটি শরণার্থী সংকট আমরা দেখতে চাই না,” তিনি ইউরোনিউজকে বলেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন জরুরি ভিত্তিতে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ দেখতে চায়। কিন্তু আমরা দেখছি আরও উস্কানিমূলক বক্তব্য, আরও বোমা হামলা, আরও ধ্বংস ও হত্যাকাণ্ড।”
তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি দ্রুত উত্তেজনা কমানোর এবং শান্তির সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান।
এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশজুড়ে অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন।
তেহরানের বাসিন্দারা বলছেন, অবিরাম বিস্ফোরণে শহরের রাতগুলো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ত্রিশের কোঠায় এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, “আমাদের বাড়ি টানা পাঁচ মিনিট কাঁপছিল। গত রাতটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।”
তিনি জানান, সারারাত বিস্ফোরণের শব্দে ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তেহরানের আরেক বাসিন্দা বলেন, “ভোর পাঁচটার দিকে বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর আর ঘুমাতে পারিনি।”
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, শহরের পরিস্থিতি যেন “একটি ড্রাগন পুরো শহরজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে” এমন অনুভূতি তৈরি করেছে।
এদিকে দেশজুড়ে চলমান ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে টানা ছয় দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au