বাংলাদেশ

ওটিএন বাংলার ধারাবাহিক এক্সক্লুসিভ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, পর্ব -২

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ এখন দুদকে

  • 12:32 pm - March 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৯৯ বার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিতর্ক। ছবি: ফরাসি পত্রিকা Les Echos-এর জন্য শিল্পী ioO কর্তৃক অঙ্কিত মুহাম্মদ ইউনূসের একটি কার্টুনচিত্র।

মেলবোর্ন মার্চ: ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অপসারিত হওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। 

এরপর থেকে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের গত কয়েক মাসে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে।

সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন–এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। এরপর একের পর এক সংবাদমাধ্যমে এসব অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। 

ওটিএন বাংলার ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হল।

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শত শত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ জমা পড়ছে তাতে অভিযোগের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারীরা পূর্ণ পরিচয়সহ লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান, আসিফ মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে মানি লন্ডারিং ও অর্থ পাচার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থাটি। 

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য অভিযোগ যেভাবে যাচাই করা হয়, এই অভিযোগগুলোও একই নিয়মে যাচাই করা হবে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়গ্রামীণ আমেরিকা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো? এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উৎস ও বিনিয়োগ কাঠামো কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব উদ্যোগের পেছনে অর্থের উৎস কী।

কয়েকদিন আগে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অতীতের বিভিন্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গেও তুলনা করেছে। ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও তাদের উপদেষ্টা পরিষদ সাধারণত নির্বাচন আয়োজনের পর ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করেছেন। তখন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এত বড় আকারে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ কেন উঠছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকার সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিজের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সুদ মওকুফের ব্যবস্থা করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে এসব অভিযোগের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

নিচে তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো

শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ

ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাঁকে খালাস দেয়। এ ছাড়া, শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাঁদের খালাস দেয়।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ড. ইউনূসকে ৬ মাসের কারাদণ্ড। ছবি:সংগৃহীত

ক্ষমতায় এসেই ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
 

অভিযোগগুলো মূলত এসেছিল গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে ড. ইউনূস নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অনিয়ম করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ট্রাস্টের মাধ্যমে আয়কর ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, ওই ট্রাস্টের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ড. ইউনূসের পরিবারের দেখভাল করা এবং এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কয়েকটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকাকালীন অবস্থায় ড. ইউনুস ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাঁদের খালাস দেয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে এসব বিষয়ে বলেন, ‘যেহেতু সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং তিনি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে রূপান্তরের দায়িত্বে রয়েছেন, তাই এটা প্রত্যাশিত যে কোনো সিদ্ধান্ত যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় এবং স্বার্থের সংঘাত না থাকে।’

নিউ এজের প্রতিবেদন
গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন?

ক্ষমতায় বসে নিজের নামে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধান উপদেষ্টার ক্ষমতা খাটিয়ে ড. ইউনুস গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়েছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম হবে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’। এ নিয়ে বাংলাদেশী অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা  দাঁড়াবে ১১৬টি।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসানকে চিঠি দিয়ে অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার (১৭ মার্চ ২০২৫) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২২টি শর্তে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। 

অনুমোদন পেয়েছে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৬টি।

তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মত হলো, নিজ অবস্থান বা প্রভাব ব্যবহার করে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য conflict of interest বা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন জড়িত।

রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (GESL) বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) থেকে জনশক্তি রপ্তানির একটি লাইসেন্স (RL No. 2806) লাভ করে। পরবর্তীতে একই বছরের এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর সদস্যপদও অর্জন করে, যা বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, গ্রামীণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের দ্রুত এই খাতে প্রবেশ এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সংগঠনের সদস্যপদ পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাদের দাবি, দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এ ধরনের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাঠামোতেও গ্রামীণ গ্রুপের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। জানা গেছে, কোম্পানিটির ৯০ শতাংশ শেয়ার গ্রামীণ সেন্টারের এবং বাকি ১০ শতাংশ শেয়ার গ্রামীণ শিক্ষার মালিকানাধীন। ফলে সমালোচকদের মতে, সামাজিক ব্যবসা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নামে পরিচিত গ্রামীণ নেটওয়ার্কের একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক জনশক্তি রপ্তানি খাতে প্রবেশ নতুন করে নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

পেমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক

ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই গ্রামীণ টেলিকমের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি সনদ (NOC) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পিএসপি লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ও প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের নভেম্বরেই পিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল, কিন্তু দীর্ঘ প্রায় তিন বছর—অর্থাৎ ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত—কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন দেয়নি। সমালোচকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার ক্ষমতা খাটিয়ে হঠাৎ করে অনুমোদন পাওয়ার সময়কাল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, দেশের আর্থিক প্রযুক্তি খাতে লাইসেন্স প্রদান একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ ধরনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো ও কর অব্যাহতি নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন একটি অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারিত্ব ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়।

এছাড়া বোর্ড কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, এবং তাদের মধ্য থেকেই একজনকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এর ফলে পূর্বের মতো সরকারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতা আর থাকবে না।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত এমন এক বৈঠকে নেওয়া হয়েছে, যার সভাপতিত্ব করেছেন সেই ব্যক্তিই, যিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। তাদের মতে, এটি সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest)-এর প্রশ্ন রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আছে।

অন্যদিকে, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়। যদিও এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক বিভিন্ন সময় কর অব্যাহতির সুবিধা পেয়ে এসেছে। তবে ২০২০ সালে আগের সরকার এই সুবিধা বাতিল করেছিল।

বিদেশ সফর ও বাস্তব অর্জনের প্রশ্ন

বিদেশ সফরের অধিকাংশই কোনো রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণের ভিত্তিতে হয়নি; বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আয়োজিত সম্মেলন, ফোরাম ও বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এসব সফরের ফাঁকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছেন।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিক বিদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন। স্বল্প সময়ে প্রায় এক ডজন দেশ সফর করে তিনি একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিক বিদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন। এসব বিদেশ সফরের অধিকাংশই কোনো রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণের ভিত্তিতে হয়নি।

সমালোচকদের মতে, এসব বিদেশ সফরের অধিকাংশই কোনো রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণের ভিত্তিতে হয়নি; বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আয়োজিত সম্মেলন, ফোরাম ও বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এসব সফরের ফাঁকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছেন।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, এ ধরনের সফরে সাধারণত সরকার-টু-সরকার (Government-to-Government) পর্যায়ে বড় ধরনের চুক্তি বা বাস্তব কূটনৈতিক অর্জনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে। তাদের মতে, এসব সফর অনেক ক্ষেত্রেই স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে দেশের জন্য প্রত্যক্ষ ও দৃশ্যমান অর্জন খুব কমই সামনে এসেছে।

সমালোচকদের আরও দাবি, ইউনূসের বেশিরভাগ বিদেশ সফর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের নীতিগত অবস্থানকে সন্তুষ্ট করা এবং নিজের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিকভাবে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হয়। এসব সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রায়ই থাকত তার বহুল আলোচিত “থ্রি জিরো” (Three Zeroes) তত্ত্ব নিয়ে বক্তব্য, যা অনেক সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও এসব সফরের অংশ ছিল; তবে সমালোচকদের মতে, এসব বৈঠক থেকে দেশের জন্য দৃশ্যমান বা দীর্ঘমেয়াদি বাস্তব ফলাফল খুব কমই দেখা গেছে।

প্রতিযোগিতা ছাড়াই গ্রামীণ ট্রাস্টকে ৭০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ 

অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই এই বিপুল অর্থ সরাসরি ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামীণ ট্রাস্ট’-এর হাতে তুলে দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল সোর্স সিলেকশন (SSS) পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কোনো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, ফলে অন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

সমালোচকদের মতে, জনগণের করের টাকায় গঠিত একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল কীভাবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে, সেটিই একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রভাব বা সমর্থন। সমালোচকদের দাবি, সরকারপ্রধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া বিশেষভাবে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জনগণের অর্থে গঠিত এই তহবিল কেন গ্রামীন ট্রাস্টকে বরাদ্দ দেওয়া হল তার জবাব সময়ই বলে দিবে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের আগস্টে গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রধান উপদেষ্টার আত্মীয়–স্বজন বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা ও সমালোচনাও দেখা গিয়েছিল সেই সময়।

গ্রামীণ টেলিকম ও আর্থিক লেনদেন, অর্থ স্থানান্তর ও সামাজিক ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ গ্রামীণ টেলিকম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন নিয়ে। কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণফোনে তাদের ৩৪.২০ শতাংশ শেয়ার থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। প্রশ্ন উঠেছে, এই লভ্যাংশের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণ অন্যতম। গ্রামীণ টেলিকম একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে, গ্রামীণ টেলিকম প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার একটি ঋণ নেওয়া হয়েছিল।পরবর্তীতে এই ঋণের প্রেক্ষিতে গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে নিয়মিতভাবে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

০২ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে “অর্থপাচার তদন্তের নামে বেসরকারি খাত ধ্বংসের নীলনকশা?” শিরোনামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও পদক্ষেপ নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়গ্রামীণ আমেরিকা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো? এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উৎস ও বিনিয়োগ কাঠামো কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব উদ্যোগের পেছনে অর্থের উৎস কী। অভিযোগ রয়েছে গ্রামীণ টেলিকম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সামাজিক ব্যবসা (সোশ্যাল বিজনেস) ধারণার আওতায় পরিচালিত হয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ বিদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ফলে বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


উল্লেখ্য যে, গ্রামীণ আমেরিকা হল নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত একটি 501(c)(3) অলাভজনক ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা। এটি মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

এই অভিযোগের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তযোগ্য হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। 

অডিট রিপোর্টে পর্যবেক্ষণ

গ্রামীণ টেলিকমের কিছু অডিট রিপোর্টেও এ বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একটি অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট বছরে গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণফোন থেকে প্রায় ৮০৮০ কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ পায়, যার একটি অংশ গ্রামীণ কল্যাণকে দেওয়া হয়। অডিটররা তাদের প্রতিবেদনে এই ধরনের লেনদেন ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ, মামলা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার কারণে বিষয়টি দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১০ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনীয় ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি একদিকে যেমন সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। ফলে অসাংবিধানিক, ঠিক তেমনই এটি ড. ইউনূসের স্বার্থপরতার একটি উদাহরণ। কারণ তিনি যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আগের আইনে বর্ণিত সকলের জন্য সময় বাড়াতেন, তাহলেও এর যৌক্তিকতা কিছুটা হলেও বোঝা যেত। কিন্তু শুধু নিজেকে আগামী এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা, কেবল অনৈতিক নয়, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

শেষ সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিআইপি প্রটোকল

গত তিন মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবরের সূত্র থেকে জানা যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বা চর্বা নের দুই দিন আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে পরবর্তী এক বছর তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা-সুবিধা পাবেন। পত্রিকাটি বলেছে  এই কাজ করতে গিয়েও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অসততার আশ্রয় নিয়েছেন। ড. ইউনূস যে অধ‍্যাদেশটি অতি গোপনীয়তার সাথে করেছেন, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর এস. আরও নং ২৮৫ সংশোধন করে করা। ঐ আদেশে বলা হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্ব স্ব পদে কর্মবর্মসানের তারিখ হইতে এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতাকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ তিন মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করিল।’ 

নিজেই নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করেন ড. ইউনূস

দৈনিক কালের কন্ঠের সূত্র থেকে একই ধরনের সংবাদ পরিবেশন করে বলা হয়েছে, ড. ইউনূস এই আদেশের আলোকে শুধু তার নিজের জন্য নিজেকে এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেননি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা যায় না। কাজেই ১০ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনীয় ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি একদিকে যেমন সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। ফলে অসাংবিধানিক, ঠিক তেমনই এটি ড. ইউনূসের স্বার্থপরতার একটি উদাহরণ। কারণ তিনি যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আগের আইনে বর্ণিত সকলের জন্য সময় বাড়াতেন, তাহলেও এর যৌক্তিকতা কিছুটা হলেও বোঝা যেত। কিন্তু শুধু নিজেকে আগামী এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা, কেবল অনৈতিক নয়, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা যায় না। ১০ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনীয়ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি একদিকে যেমন সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন, তেমনি এটি ড. ইউনূসের স্বার্থপরতার উদাহরণ বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তারা বলেন, তিনি যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আগের আইনে বর্ণিত অন্যদের জন্যও সময়সীমা বাড়াতেন, তাহলে এর যৌক্তিকতা কিছুটা বোঝা যেত। কিন্তু শুধু নিজের জন্য এক বছরের মেয়াদ নির্ধারণ অনৈতিক এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন— এমন মত তাদের।

সমালোচকদের মতে, এই সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সব অভিযোগ ও বিতর্কের বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের জন্য স্বচ্ছ তদন্ত এবং আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চলবে..

এই শাখার আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা…

হেলমেট নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে এক পরিবারের ১৩ গুলিবিদ্ধ

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ১৪ জন আহত…

টেন্ডুলকারের যে পরামর্শে নিজেকে বদলে ফেলেন স্যামসন

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের…

চীনের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- ইরান–ইসরাইল সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে চীনের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ তথ্য…

পাঁচ অতিরিক্ত আইজিপিকে অবসরে পাঠাল সরকার

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ অধিশাখা থেকে জারি…

চ্যাম্পিয়ন হয়ে কত টাকা পেল ভারত?

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল। ফাইনালে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-কে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au