যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা…
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তিন তেল বিতরণ কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে দেশের জ্বালানি তেল সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। সময়মতো তেলের মজুতের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, যার ফলে সারা দেশে তেলের জন্য অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে কমপক্ষে ৬০ দিনের তেলের মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমানে দেশের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৩০–৩৫ দিনের মতো। তার মধ্যে ডিজেলের মজুত মাত্র ১০–১১ দিন। তুলনায় ভারত ৭৪ দিনের, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা ৩০ দিনের, নেপাল ১০ দিনের এবং ভিয়েতনাম ৪৫ দিনের তেলের মজুত রাখে। জাপান ২৫০ দিনের তেলের মজুত রাখার সক্ষমতা রাখে।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ৩০–৩৫ দিনের মজুত কোনো আপৎকালীন সক্ষমতা নয়। এটি শুধু পরিচালনার মজুত ছাড়া কিছুই নয়। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, তেল বিতরণ কোম্পানিগুলো তেলের মজুত বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ অর্জনে আগ্রহী। গত অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম প্রতি কর্মচারীকে ১৮ লাখ টাকা, যমুনা ১৩ লাখ ৫০ হাজার এবং পদ্মা ৬ লাখ টাকা বোনাস দিয়েছে।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম বলেন, বিপিসি অদক্ষ প্রতিষ্ঠান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সংকেত থাকা সত্ত্বেও তারা সতর্কতা অবলম্বন করেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশের তেলের মজুত ৯ দিনে নেমে আসে। সেদিক থেকে সরকার তেলের রেশনিং ঘোষণা করে, তবে ফিলিং স্টেশনগুলো বিপাকে পড়ে।
জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২ মার্চ পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন ও ডিপো থেকে বিপিসি ও বিতরণ কোম্পানিগুলো দ্বিগুণ তেল বিক্রি করেছে। ওই তিন দিনে ৭০ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়, স্বাভাবিক বিক্রি ছিল ৪৫ হাজার টন। সরকারের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তেলের মজুত কমানোর মূল কারণ হচ্ছে বিপিসি ও তিন বিতরণ কোম্পানির অদক্ষতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি উদাসীনতা।
২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে কম দামের তেল ক্রয় এবং ৬০ দিনের মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিপিসি ও পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অয়েল কোম্পানি ছয় বছরেও এটি বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমানে দেশে তেলের মজুত আছে মাত্র ১০–১২ দিনের মতো। ২০২১ সালের তুলনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েলের মজুত প্রায় অপ্রতুল। দেশে ২৭টি ডিপোতে ৪৬৩টি ট্যাংক আছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনায় সবচেয়ে বেশি ২১ দিনের ডিজেল মজুত। নাটোর, হরিয়ানা, চিলমারী, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কেএডি, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারে কোনো ডিজেল নেই। দেশে প্রতিবছর ৭০ লাখ টনের বেশি তেল ব্যবহার হয়, যার মধ্যে ডিজেলের ব্যবহার ৪০ লাখ টনের বেশি।
বিপিসি তথ্য অনুযায়ী, দেশের তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০১৯–২০ সালে ৫৫ লাখ টন, ২০২০–২১ সালে ৬২ লাখ টন, ২০২১–২২ সালে ৬৯ লাখ টন, ২০২২–২৩ সালে ৭৩ লাখ টন এবং ২০২৩–২৪ সালে ৬৭ লাখ টন। আগামী পাঁচ বছরে চাহিদা ১ কোটি টনের বেশি হতে পারে। মজুত বৃদ্ধি হলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, পার্বতীপুর ও পিতলগঞ্জে নতুন ট্যাংক বসানো হলেও বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বিপিসির সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পে। ১ লাখ ২৮ হাজার টনের ট্যাংক চালু না হওয়ায় দুই বছর ধরে অলস পড়ে আছে।
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অয়েল কোম্পানি মূলত ব্যাংক থেকে সুদে লাভ করে। এই তিন কোম্পানির ফিলিং স্টেশন ২,৩০৭টি, দেশের অধিকাংশ ট্যাংকারও তাদের নিয়ন্ত্রণে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও কার্যকর উদ্যোগ নেই।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি শাহিরুল হাসান স্বীকার করেছেন, তাদের স্টাফরা ১৫ লাখ টাকার বেশি বোনাস পেয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, তেলের মজুত যথেষ্ট। যমুনা ও পদ্মার এমডিরাও যথাযথ পরিসংখ্যান না দিয়ে মজুত পর্যাপ্ত থাকার কথা বলেছেন।
ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, করোনা ও ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষ বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা ছিল। বাংলাদেশের মতো দেশে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেলের রিজার্ভ থাকা উচিত। ৯০ দিনের মজুত রাখলে বছরে চার বিলিয়ন ডলারের ডিজেল খরচের জন্য এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে বিপিসি ও বিতরণ কোম্পানিগুলো তা করতে চায় না, তারা নগদ লাভে আগ্রহী। এ অবস্থায় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে।
সূত্রঃ যুগান্তর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au