যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা…
মেলবোর্ন ৯ মার্চ: সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শত শত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আরও অভিযোগ এখনো আসছে।
দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ জমা পড়ছে, তাতে অভিযোগের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারীরা পূর্ণ পরিচয়সহ জমা দিয়েছেন।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাদির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান, আসিফ মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে মানি লন্ডারিং ও অর্থ পাচার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থাটি।

বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় ড. আসিফ নজরুল।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য অভিযোগ যেভাবে যাচাই করা হয়, এই অভিযোগগুলোও একই নিয়মে যাচাই করা হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ড. আসিফ নজরুলের অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জামিন বাণিজ্য। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, প্রভাব খাটিয়ে এবং বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বেশ কিছু আলোচিত মামলায় আসামিদের জামিন নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাই ও বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। পরে ওই সিইওর ছোট বোন মামলা দায়ের করলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পায় এবং আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে।
কয়েকদিন আগে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অতীতের বিভিন্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গেও তুলনা করেছে। ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও তাদের উপদেষ্টা পরিষদ সাধারণত নির্বাচন আয়োজনের পর ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করেছেন। তখন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এত বড় আকারে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ কেন উঠছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে এসব অভিযোগের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
সব সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ করা ড. আসিফ নজরুল তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে বহুবার বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। রাজনৈতিক মন্তব্য, নীতিগত অবস্থান এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে বিভিন্ন সময় জনমত বিভক্ত হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল (আসল নাম: মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম; জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৯৬৬) একজন লেখক, ঔপন্যাসিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং ১৯৮৭ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের SOAS ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে ১৯৯৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং জার্মানির এনভায়রনমেন্টাল ল’ সেন্টারে পোস্ট–ডক্টরাল গবেষণাও সম্পন্ন করেন।
পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি সাংবাদিকতা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অধ্যাপনা করে আসছেন। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকারভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন South Asians for Human Rights (SAHR)–এর ব্যুরো সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, যা মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত একটি সংগঠন। সে সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সংগঠনটি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন।
২০২৪ সালে গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ৮ আগস্ট তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও তাকে নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। ২০০৪ সালে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি লেখক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা আহমেদকে বিয়ে করেন এবং তাদেরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে বিভিন্ন সভা–সেমিনার এবং টক শোতে ড. আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশ্লেষক অভিযোগ করেছিলেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত ও এনজিওতে কাজ করছেন। অভিযোগ ছিল, এতে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ বেকার থাকছেন এবং দেশ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ভারতে চলে যাচ্ছে। তবে এত গুরুতর অভিযোগ তুলে পরবর্তীতে তা প্রমাণ বা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে ওই ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়নে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারসহ এক ডজনের বেশি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে দুদক অভিযোগগুলো যাচাই–বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্কে সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জামিন বাণিজ্য। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, প্রভাব খাটিয়ে এবং বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বেশ কিছু আলোচিত মামলায় আসামিদের জামিন নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাই ও বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। পরে ওই সিইওর ছোট বোন মামলা দায়ের করলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পায় এবং আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে ওই ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিন নিয়েও। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওই জামিন নিশ্চিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকার প্রায় ১৮ মাসের সময়ে একাধিক মামলায় অর্থের বিনিময়ে জামিন বাণিজ্য হয়েছে।
এ ছাড়া ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারকদের বদলির ক্ষেত্রে ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সাব–রেজিস্ট্রার পদে বদলি ও নিয়োগের ক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান এবং সাভারের মতো উচ্চ আয়ের এলাকাগুলোতে ব্যাপকভাবে সাব–রেজিস্ট্রার বদলি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদায়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ড. আসিফ নজরুলের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা। আগের বছরের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। একই সময়ে তার স্ত্রী শীলা আহমেদের মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রকাশিত নথিতে তাদের আয়ের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে অভিযোগে বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে অনুসন্ধান শুরু করা হবে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, দুদকে কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তা যাচাই–বাছাই কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। যাচাই–বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় এবং কোনো অভিযোগ ৮০ নম্বর বা তার বেশি পেলে তা অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়।
এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সাবেক এই আইন উপদেষ্টা নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, তিনি কখনো দুর্নীতি করেননি এবং জীবনে এক টাকাও অবৈধভাবে গ্রহণ করেননি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো স্বজনপ্রীতি করেননি এবং কোনো নতুন সম্পদ অর্জনও করেননি। একই সঙ্গে বিদেশে বাড়ি কেনা বা দেশ ছাড়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রকাশিত খবরকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
সরকারি প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ড. আসিফ নজরুলের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা। আগের বছরের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। একই সময়ে তার স্ত্রী শীলা আহমেদের মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রকাশিত নথিতে তাদের আয়ের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় এবং তা আমলযোগ্য হয়, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। তিনি বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর রয়েছে দুদকের যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার দিকে, কারণ অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের পর্যায়ে গেলে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
(চলবে)
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au