যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে ১৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা: সিপিডি
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব আয় বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা কমতে পারে বলে সতর্ক করেছে বেসরকারি গবেষণা…
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য চালু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। আজ সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই কর্মসূচির সূচনা করেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সরকারি এই উদ্যোগের আওতায় দেশের নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি এই অর্থ উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সুবিধাভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করবে এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, এর মধ্যে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক। এই যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের সময় বেশ কিছু কঠোর শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে। একই ব্যক্তি যাতে একাধিক সরকারি ভাতা না পান, সে জন্য ‘ডাবল ডিপিং’ প্রতিরোধে বিশেষ যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সব যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক ও অসচ্ছল নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ বিতরণ করা হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দরিদ্ররাই এই সুবিধা পাবেন।
কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের পর ধাপে ধাপে দেশের সব যোগ্য পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au