বাংলাদেশ

প্রিন্টের প্রতিবেদন

ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফরে সম্পর্ক স্বাভাবিকের ইঙ্গিত 

  • 2:04 pm - March 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮৯ বার
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ-  বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর সাম্প্রতিক ভারত সফরকে দুই দেশের শীতল সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর দুই দেশের গোয়েন্দা পর্যায়ে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকা যোগাযোগের বিভিন্ন চ্যানেল পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রিন্ট জানায়, ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়া দিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সফরকালে তিনি ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা এমন একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছান যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যোগাযোগের চ্যানেলগুলো আবার সক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত চলে যান এবং এরপর থেকে তিনি নয়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানালেও এ বিষয়ে ভারত এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করে।

পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয়। এরপর সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের অংশ হিসেবে ২৩ ফেব্রুয়ারি মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তার ভারত সফরকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সময় দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি যোগাযোগ চ্যানেল কার্যত স্থগিত ছিল। তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত যোগাযোগ মূলত দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সীমিত আকারে চলছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরজুড়ে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ডিজিএফআই প্রধানের এই সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিকিৎসাজনিত কারণে’ বলা হলেও বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে নয়া দিল্লি।

ভারত গত কয়েক মাসে বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও দেখিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোকবার্তা প্রদান করেন।

এ ছাড়া তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরিকে পাঠানো হয়। এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শেখ হাসিনার অবস্থান, যিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সহিংসতার অভিযোগে বাংলাদেশে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে বলেছেন, শেখ হাসিনার ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে জিম্মি করে রাখা হবে না।

দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তির মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি, যার মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি গত এক বছরে দুই দেশের আরোপ করা বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধও এখনো বহাল রয়েছে।

এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান শরীফ হাদির হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ভারত। তাদের দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়েই দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা আগামী সময়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এই শাখার আরও খবর

‘মার্কিন সেফ হাউজে সমন্বয়কদের মগজধোলাই হয়েছে’, কী বলতে চেয়েছেন ফরহাদ মজহার

মেলবোর্ন, ৯ আগস্ট:  জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিদেশি দূতাবাসের আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।…

মোদির সঙ্গে ফোনে কথা জেডি ভ্যান্সের, গভীর হচ্ছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবারের এই ফোনালাপে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর…

সিডনির পর এবার মেলবোর্ন মাতালেন রুনা লায়লা

মেলবোর্ন, ৯ আগস্ট: সিডনিতে প্রবাসী বাঙালিদের মুগ্ধ করার পর এবার মেলবোর্ন মাতালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে…

২০২৫-২৬ অর্থবছর: সরকারের ঋণ সর্বোচ্চ, বেসরকারি সর্বনিম্ন

মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: দেশের ব্যাংকিং খাতে বিপরীতমুখী একটি চিত্র দেখা দিয়েছে। একদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের…

সেনাপ্রধান কি রাষ্ট্রের ধর্মশিক্ষা নির্ধারণ করতে পারেন? বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কি বলে?

মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: ৩ আগস্ট রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন এবং একই অনুষ্ঠানে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল,…

নীট আন্দোলনে জেন-জিকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল: ধর্মেন্দ্র প্রধান

মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: ভারতের নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কিছু মানুষ ‘ভুল পথে পরিচালিত’ করার চেষ্টা করেছিল…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au