বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রস্তুত দিল্লি, আলোচনায় বসার ইঙ্গিত
মেলবোর্ন, ৭ মে- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে চায় দিল্লি। বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ভারত। অতীতের…
মেলবোর্ন, ৭ মে- বাংলাদেশে মিজেলস (হাম) ও রুবেলা পরীক্ষার একমাত্র কেন্দ্র জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ভাইরোলজি ল্যাবে তীব্র কিট সংকট দেখা দিয়েছে। কিটের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি হামের নমুনা পরীক্ষা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সারা দেশ থেকে পাঠানো পাঁচ হাজারেরও বেশি নমুনা বর্তমানে ল্যাবে পরীক্ষার অপেক্ষায় জমে আছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১১৪ প্যাকেট কিট ব্যবহার করে ১০ হাজার ৫৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে হাতে মাত্র ১৩টি কিট অবশিষ্ট আছে। প্রতিটি কিট দিয়ে প্রায় ৯০ থেকে ৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। সেই হিসেবে এই কিটগুলো দিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২০০টি নমুনা পরীক্ষা সম্ভব।
কিট সংকটের কারণে বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১২০ থেকে ১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যেখানে গত মাসে একদিনে সর্বোচ্চ ৭০০টি নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছিল। ফলে পরীক্ষার গতি ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং নতুন নমুনা গ্রহণও সীমিত করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর হাসপাতাল থেকে ১০টি নমুনা নিয়ে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে আসেন স্বাস্থ্য সহকারী মিজানুর রহমান। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহে তিন দিন নমুনা আনা হয় এবং এসব পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি সব রোগীর নমুনা নেওয়া হয় না, কিছু নির্দিষ্ট নমুনাই পাঠানো হয়।

হামের চিকিৎসার জন্য ডিএনসিসি হাসপাতালে আনা হয়েছে এক বছরের শিশুকে। ছবিঃ সংগৃহীত
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজি ল্যাবের ইনচার্জ ডা. আমিরুল হুদা ভূইয়া বলেন, কিট স্বল্পতার কারণে এখন সীমিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কিছু নির্দিষ্ট হাসপাতাল থেকে আসা নমুনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৩০টি কিট আগামী রোববারের মধ্যে আসবে, যা দিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। এরপর আরও ১০০টি কিট দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব কিট পেলে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ল্যাবের মূল কাজ হলো নজরদারির ভিত্তিতে আসা নমুনা পরীক্ষা করা এবং কোন এলাকায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তা নির্ধারণ করা। যেহেতু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, তাই এখন সব নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন কমে এসেছে এবং উপসর্গ দেখেই অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান বলেন, কিট সংকট থাকলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তারা আগে থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে কিট সরবরাহের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন। গত মাসে কিছু কিট পাওয়া গেছে এবং নতুন করে আরও কিট আসার কথা রয়েছে। কিট হাতে পেলেই আবারও পূর্ণমাত্রায় পরীক্ষা চালু করা হবে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা ছিল। তারপরও পর্যাপ্ত কিট মজুদ না রাখা একটি বড় ব্যর্থতা। তাদের মতে, একমাত্র পরীক্ষাগারটি ডব্লিউএইচও নির্ভর হওয়ায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি ছিল। এখন রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সঠিকভাবে শনাক্তকরণ ও পরিকল্পনা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পরীক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইপিএইচে সারা দেশ থেকে নমুনা আসে বলে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞরা জ্বরের সঙ্গে লাল র্যাশ, সর্দি-কাশি এবং চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখে হাম শনাক্ত করতে পারেন। তিনি বলেন, সক্ষমতা অনুযায়ী পরীক্ষার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে এবং কিট পাওয়া গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au