পাতায়ায় অস্ট্রেলীয় পর্যটককে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই, দুই কিশোর আটক
মেলবোর্ন, ৬ মে- থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন নগরী পাতায়ায় এক অস্ট্রেলীয় পর্যটককে ছুরিকাঘাত করে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়,…
মেলবোর্ন,৬ মে- আটলান্টিক মহাসাগরে একটি ক্রুজ জাহাজে একের পর এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে হান্টাভাইরাস। কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু এবং একাধিক সংক্রমণের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিষয়টি তদন্ত করছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু থাকা জাহাজটিতে ৪ মে পর্যন্ত সাতজনের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত বা সন্দেহ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের শরীরে পরীক্ষাগারে হান্টাভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে, একজন গুরুতর অবস্থায় এবং বাকিরা তুলনামূলকভাবে হালকা উপসর্গে ভুগছেন।
৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে শুরু হওয়া এই অসুস্থতার শুরুটা ছিল সাধারণ জ্বর ও হজমজনিত সমস্যা দিয়ে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তা দ্রুত শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতায় রূপ নেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্তদের আলাদা রাখা, চিকিৎসা দেওয়া এবং নমুনা পরীক্ষাসহ সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ইঁদুরের শুকনো মল, মূত্র বা লালা বাতাসে মিশে গেলে তা শ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কামড় বা আঁচড় থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে এই রোগের লক্ষণ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হতে পারে-জ্বর, ক্লান্তি এবং পেশিতে ব্যথা। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই এটি দ্রুত শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় রূপ নিতে পারে। এই অবস্থাকে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম বলা হয়, যেখানে মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরেক ধরনের হান্টাভাইরাস কিডনিতে আঘাত হানে, যা রক্তচাপ কমে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ এই ভাইরাসের বিভিন্ন ধরনে আক্রান্ত হন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ইউরোপ ও এশিয়ায় সীমিত থাকে। সংক্রমণ তুলনামূলক বিরল হলেও চিকিৎসকরা একে অবহেলার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করছেন, কারণ রোগটি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এখন পর্যন্ত হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন, ভেন্টিলেশন এবং গুরুতর অবস্থায় কিডনি ডায়ালাইসিসসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা, ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজের সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা জরুরি।
সাম্প্রতিক ক্রুজ জাহাজের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, অদৃশ্য ভাইরাস কত দ্রুত বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। হান্টাভাইরাস হয়তো এখনো খুব পরিচিত নাম নয়, কিন্তু এর ঝুঁকি যে উপেক্ষা করার মতো নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে নতুন করে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au