৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু আসনেও জিতল বিজেপি
মেলবোর্ন, ৭ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভোট সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আগে যেখানে সংখ্যালঘু ভোট অনেক আসনে নির্ধারক হিসেবে কাজ করত, এবারের…
মেলবোর্ন, ৭ মে- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে চায় দিল্লি। বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ভারত। অতীতের কিছু টানাপোড়েন কাটিয়ে এখন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিতে চায় নয়াদিল্লি।
নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এ কথা জানান। গত সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি তিস্তার পানিবণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন, ভিসা ব্যবস্থা, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থ। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে চায় এবং সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ তাদের অগ্রাধিকার ঠিক করলে আলোচনা শুরু করতে ভারত প্রস্তুত। তার মতে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণেই যৌথভাবে কাজ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং তারা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে। তবে ভারত আশা করে, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে না ওঠে, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের যোগাযোগ কিছুটা ধীর ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে ভারত যোগাযোগ বজায় রেখেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে তিনি ঢাকা সফর করেছেন এবং ২০২৫ সালে ব্যাংককে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য, ভিসা সহজীকরণ এবং সেপা চুক্তির মতো বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহী।
বাংলাদেশে অতীতে বিতর্কিত নির্বাচনে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করে দেন বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সব সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে কোনো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভারতের হস্তক্ষেপ বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষায়, বাংলাদেশের জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয় তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে।
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় তিন দশকের পুরনো এই চুক্তি এখনো কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এর নবায়ন করা হবে।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, সব বিষয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ চলছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশবিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মন্তব্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে এবং তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বড় ইস্যু হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ভিসা ইস্যু নিয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যে মেডিকেল ভিসা সহজ করা হয়েছে এবং অন্যান্য ভিসা প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। শিগগিরই সব ধরনের ভিসা ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং তারা নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এমন কোনো সম্পর্ক না গড়ার বিষয়ে ভারত সচেতন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষাক্ত সাপ বা কুমির ব্যবহারের খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে বলেন, ‘এই ধরনের খবর সঠিক নয়’।
সবশেষে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায় এবং দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au