ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত, ৪ সেনার মৃত্যু। ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট) বিধ্বস্ত হয়ে চার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত ‘কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার’ বিমানটিতে থাকা আরও দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দুর্ঘটনাটি কোনো শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের গোলাবারুদ দ্বারা ঘটেনি। তবে ঘটনার সময় একই এলাকায় আরও একটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান উপস্থিত ছিল। গত বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার কারণ এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত সেনাদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরশেবায় একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন হামলা চলতে থাকবে এবং ইসরায়েলের অন্যান্য সামরিক স্থাপনার ওপরও হামলা চালানো হবে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হচ্ছে। স্কুল, হাসপাতালসহ বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছে, সরকারবিরোধী নতুন কোনো বিক্ষোভ দমনে গত জানুয়ারির চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ইরানি কর্তৃপক্ষ ওই বিক্ষোভের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছিল। কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসার এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন, যা ইরানে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা