১১৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, ১২৮ রানের হার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে এনেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন কার্যত অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝপথে বজ্রসহ বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭ রান। প্রায় তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর বৃষ্টি আইনে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৩২ ওভার করা হয় এবং বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান।
নতুন সমীকরণ অনুযায়ী বাকি ২৫ ওভারে বাংলাদেশের করতে হতো ২১৬ রান। তবে কঠিন এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম ধাক্কা দেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। তার বলে ছক্কার চেষ্টা করতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৭ বল খেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর পরের ওভারে আঘাত হানেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। তার বলে শর্ট মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ওপেনার সাইফ হাসান। ১২ রান করে বিদায় নিলে মাত্র ১৩ রানেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলের হাল ধরতে নেমে ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শাহীন শাহ আফ্রিদির ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে তিনি ফেরেন কোনো রান না করেই। এতে ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এই বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা লিটন ৩৩ বলে ৪১ রান করেন। তবে মাজ সাদাকাতর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় এই জুটি।
লিটনের বিদায়ের পর আবারও ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাওয়া আফিফ হোসেন ১৫ বলে ১৪ রান করে একই বোলার মাজ সাদাকাতের শিকার হন। এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ বল খেলে বড় শট খেলতে গিয়ে ফাহিম আশরাফর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাজ সাদাকাতের বলে বোল্ড হয়ে যান রিশাদ হোসেন।
১০১ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। একপ্রান্ত আগলে রাখা তাওহীদ হৃদয়ও শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। দলীয় ১০৩ রানে তিনি আউট হলে বাংলাদেশের পতন আরও দ্রুত হয়। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনের ১০৯ রানের জুটিতে ৩ উইকেটে ২৩১ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান। তবে সালমান ৬৪ রান করে রানআউট হওয়ার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দলটি। শেষ পর্যন্ত শেষ ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। এতে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনে শেষ ম্যাচকে নির্ধারণী লড়াইয়ে পরিণত করেছে সফরকারীরা।