খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু (৩৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকায় প্রক্রিয়াটি এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গতকাল জাতীয় সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকটি সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে শুরু হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা শক্তিশালী করতে সরকার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিআনা পাসধারীদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগের সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই পদ্ধতিকে যুক্তিসংগত মনে করেন না।
তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের নীতিমালার আওতায় এনে যুগোপযোগী করার বিষয়েও কাজ চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইবতেদায়ি ও কওমি শিক্ষাসহ দেশের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত একটি শিক্ষা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন-এর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোট ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকার এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে কাজ করছে। নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকার নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে বলে জানান তিনি। পূর্বে জমা দেওয়া আবেদনগুলোও পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।
এদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত সব সুবিধাভোগীকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে একই ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়, যা স্পষ্ট দুর্নীতি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ করার চেষ্টা চলছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন-এর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরী-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে সব সুবিধাভোগী পরিবারকে আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর হলেও সরকার চায় সুবিধাভোগীরা যেন প্রকৃতভাবে উপকৃত হন।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক-এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিদ্যমান তালিকা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। অতীত সময়ে তালিকা তৈরিতে যেসব অনিয়ম হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে তালিকা প্রণয়নের সময় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। এখন সেই তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au