মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- ইসরায়েলি ফুটবলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সরব ছিল ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তবে সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে কেবল জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফিলিস্তিনের করা দুটি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত জানায় ফিফা। এর একটি ছিল পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি এলাকায় অবস্থিত ক্লাবগুলোকে জাতীয় লিগে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। তবে গভর্ন্যান্স প্যানেলের পরামর্শে ফিফা জানায়, পশ্চিম তীরের আইনি অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে এখনও জটিল ও অনির্ধারিত হওয়ায় এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে অন্য অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈষম্যমূলক আচরণ, বর্ণবাদ, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন।
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির বিচারকরা তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলি ফুটবলে রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা প্রচারের ঘটনা ঘটেছে এবং তা উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে বেইতার জেরুজালেম-এর সমর্থকদের ধারাবাহিক বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াকে ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া বসতি এলাকাগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ফুটবল অবকাঠামো থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বৈষম্য প্রতিরোধে সংস্কার, নজরদারি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করতে হবে, যা ফিফার অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ফিফা আরও নির্দেশ দিয়েছে, একটি পূর্ণ মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়াম ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সংস্কার, পর্যবেক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।
ফিফার বিচারকরা বলেন, ফুটবল শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম—যেখানে বৈষম্য ও বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই।