মেলবোর্ন, ২৯ মার্চ- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে ক্যাটাগরি চার ঘূর্ণিঝড় ন্যারেলের আঘাতে এক্সমাউথের কাছে অবস্থিত বুলারা স্টেশন ভয়াবহ বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়েছে। শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে পুরো অঞ্চল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, সামনে আসে প্লাবিত খামার ও বিধ্বস্ত অবকাঠামোর চিত্র।
শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়টি এক্সমাউথ উপসাগরে আঘাত হানার পর পার্থ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার উত্তরে গ্যাসকয়েন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এক্সমাউথের নিকটবর্তী প্রায় ১ লাখ হেক্টর আয়তনের বুলারা স্টেশন স্টে, যা একটি জনপ্রিয় পর্যটন আবাসনও, তা সম্পূর্ণভাবে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়ভাবে ধারণ করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, দ্রুতগতির বন্যার পানি প্রায় বাড়ির ছাদ পর্যন্ত উঠে গেছে। কোথাও কোথাও মানুষকে নৌকা ও প্যাডেলবোর্ড ব্যবহার করে চলাচল করতে হয়েছে। এমনকি কাদামাখা স্রোতের মধ্যে একটি প্রাণীকে গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
বুলারা স্টেশনের মালিক এডউইনা শ্যালক্রস ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, পানির স্তর ছিল “অভূতপূর্ব”। তার ভাষায়, উপসাগর থেকে আসা জোয়ারের ঢেউ হাইওয়ে পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং এতে অনেক গবাদিপশু আটকে পড়ে।
তিনি আরও জানান, শনিবার রাতের মধ্যে বেশিরভাগ পানি নেমে গেলেও এর আগে পর্যন্ত তাদের কায়াক, ছোট নৌকা ও স্ট্যান্ড-আপ প্যাডেলবোর্ড ব্যবহার করে চলাচল করতে হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। তবে ঘোড়া ও ছাগলগুলোকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পরিবারের পোষা ষাঁড় ‘স্ক্র্যাচি’ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ঝড়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। স্থানীয় কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন এবং কমিউনিটির সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন খামার কর্তৃপক্ষ।
ঘূর্ণিঝড় ন্যারেলের এই আঘাত পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও খামার মালিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ