মেলবোর্ন, ৩০ মার্চ- বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন ঘিরে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। রোববার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নেতাই রায় চৌধুরী। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় এবারের বাংলা নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়— ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে বরাবরের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যা সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশনের ফিড ব্যবহার করে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করবে।
এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে।
সভায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নববর্ষকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও বাঙালির সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, ছায়ানটের প্রতিনিধি অধ্যাপক কাওসার হাসান টগর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অনেকে।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মোট ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন এবং অনলাইনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও যুক্ত ছিলেন।