‘জুলাই আদেশ’ সংবিধানের ওপর প্রতারণা: আইনমন্ত্রী
মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- ‘জুলাই আদেশ’কে আইনি ভিত্তিহীন এবং সংবিধানের ওপর প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি মূলত একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’, যার মাধ্যমে সংবিধানে…
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সামনে রেখে আগামী ৭ এপ্রিল নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, এই সফরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস হিসেবে ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যিনি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন, তিনি মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করবেন।
সূত্রগুলো জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন ৮ এপ্রিল তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পিযুষ গোয়ালের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন। পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী হরদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গেও তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর হতে যাচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও এ সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। ইতোমধ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল চুক্তির জলবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। নতুন করে চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে পানি প্রবাহে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের পক্ষে ভারতের সমর্থন চাইতেও এ সফরে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা, পানি বণ্টন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা—এই তিনটি ইস্যুই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। ফলে এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au