‘জুলাই আদেশ’ সংবিধানের ওপর প্রতারণা: আইনমন্ত্রী
মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- ‘জুলাই আদেশ’কে আইনি ভিত্তিহীন এবং সংবিধানের ওপর প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি মূলত একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’, যার মাধ্যমে সংবিধানে…
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস পরিচালনা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এক যৌথসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পাঠ গ্রহণ করবে এবং বাকি তিন দিন অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস চলবে। কোন দিন অনলাইন আর কোন দিন সরাসরি ক্লাস হবে, তা নির্ধারণে জোড়-বিজোড় তারিখ বা রোল নম্বরভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে অনলাইন ক্লাসের দিনেও শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সেখান থেকেই পাঠদান পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো অবশ্যই সরাসরি ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতেই সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে যাতায়াত ব্যয় কমানো এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আংশিক অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। আপাতত এই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে।
রমজান, ঈদ এবং অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও প্রথম দিন উপস্থিতির হার ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিশেষ করে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরা এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে পারেননি।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন জানান, অনেক অভিভাবক আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে জ্বালানি সংকটের কারণে তারা সন্তানদের পাঠাতে পারছেন না।
ঈদের ছুটি শেষে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনায় রেখেছিল। এর মধ্যে ছিল সম্পূর্ণ অনলাইন ক্লাস চালু করা, অনলাইন ও অফলাইন সমন্বয়ে হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা এবং সমন্বিত রুটিনের মাধ্যমে সপ্তাহের দিনগুলো ভাগ করে ক্লাস নেওয়া।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম হান্নান জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিন সকালে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষাপদ্ধতির সমন্বয় করেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হাইব্রিড ব্যবস্থা শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au