সংসদে বাদ পড়ছে গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের…
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দীর্ঘদিন আলোচিত জুয়া সংস্কার প্রতিবেদন অনুসারে সরকারের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তাঁর ঘোষণায় টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইনে জুয়া–সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনে আংশিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তবে অনেকেই এটিকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছেন।
রাজধানী ক্যানবেরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রয়াত লেবার পার্টির সংসদ সদস্য পেটা মারফি প্রণীত ‘ইউ উইন সাম, ইউ লুজ মোর’ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবে। প্রতিবেদনে অনলাইন জুয়া বিজ্ঞাপন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে টেলিভিশনে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তিনটি জুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে। একই সময়ে সরাসরি খেলাধুলার সম্প্রচারে জুয়া বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার সময়ে রেডিওতে জুয়া বিজ্ঞাপন প্রচারও বন্ধ রাখা হবে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারকারী লগইন না করলে বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। ব্যবহারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপন বন্ধ করার বিকল্প রাখতে হবে। খেলোয়াড় বা তারকা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন, খেলাধুলাপ্রেমীদের লক্ষ্য করে অডস-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন, স্টেডিয়াম বা খেলোয়াড়দের জার্সিতে জুয়া প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাপ্তবয়স্করা চাইলে জুয়া খেলতে পারবেন, তবে শিশুদের যেন এসব বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি হতে না হয়। তিনি আরও জানান, খেলাধুলা যেন জুয়ার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত হয়ে না পড়ে, সেটি রোধ করাই মূল উদ্দেশ্য।
এছাড়া অনলাইন লটারি, বিদেশি জুয়া সেবা এবং অনলাইন কেনো ধরনের ডিজিটাল জুয়ার ওপরও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় আগে সংসদীয় তদন্তে ৩১টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ধাপে ধাপে সব ধরনের জুয়া বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা, জাতীয় পর্যায়ে ক্ষতি কমানোর কৌশল তৈরি, স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠন এবং জুয়া কোম্পানির ওপর কর আরোপ করে গবেষণা ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো ছিল।
তবে সরকারের এই আংশিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়, বরং সীমিত পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কেট চেইনি বলেন, এতদিন পর সরকারের এই ঘোষণা বাস্তব সংস্কারের বদলে কেবল প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এতে জুয়াজনিত ক্ষতি কমানোর দায়িত্ব ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য সাইমন কেনেডি বলেন, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং অনেক দেরিতে এসেছে।
চিকিৎসক সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এর সহসভাপতি জুলিয়ান রেইট বলেন, আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর সমাধান নয়। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছাড়া শিশু ও তরুণদের জুয়া বিজ্ঞাপনের প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
গবেষক সামান্থা থমাস বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ জুয়া–সম্পর্কিত ক্ষতি কমাতে যথেষ্ট নয় এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে না।
জুয়া খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রেসপনসিবল ওয়েজারিং অস্ট্রেলিয়া এই সিদ্ধান্তকে শিল্পখাতের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী কাই ক্যান্টওয়েল বলেন, কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্পেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণের নজির সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় জুয়া সংস্কার নিয়ে সরকারের ঘোষিত নতুন নীতিমালা শিশুদের সুরক্ষার জন্য আংশিক নিয়ন্ত্রণ আনলেও, এর কার্যকারিতা এবং প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au