বিশ্ব

যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা

ট্রাম্পের ইরান নীতির সমালোচনা করে শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞের খোলাচিঠি

  • 12:23 pm - April 04, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩১৯ বার
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল-

ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ও কঠোর হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো বক্তব্যকে নিন্দনীয় ও ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা। একই সঙ্গে শতাধিক মার্কিন আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি খোলাচিঠিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রয়েছেন। তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই এবং ইরানের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক হামলার প্রমাণ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কেবল আত্মরক্ষার প্রয়োজন হলে বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন থাকলেই বৈধ হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো শর্তই পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

চিঠিতে চারটি প্রধান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে—যুদ্ধ শুরু করার বৈধতা, যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি, শীর্ষ কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি লঙ্ঘন।

আইনবিশেষজ্ঞরা যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। ওই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। এছাড়া হাসপাতাল, পানি পরিশোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। জেনেভা সনদ অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে এসব বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড হংজু কোহ, ইয়েল ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ওনা হ্যাথাওয়ে এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ অ্যালস্টোনসহ আরও অনেকে।

এদিকে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই হামলায় দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তেহরান সরকারের দাবি, এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, এটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি সম্ভবত এফ-১৫ই মডেলের বিমান। একজন পাইলটকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।

যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজয়ের দাবিকে উপহাস করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, এই যুদ্ধ এখন ‘শাসন পরিবর্তন’ থেকে ‘আমাদের পাইলট কোথায়’—এই পর্যায়ে নেমে এসেছে।

এর আগে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ধ্বংসের খবরও প্রকাশ পেয়েছিল। পাশাপাশি যুদ্ধের শুরুর দিকে ভুলবশত নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার নতুন হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করেনি এবং সামনে আরও বড় আক্রমণ হতে পারে।

এই হুমকির জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও সম্পদের ওপর পাল্টা আঘাত হানা হবে।

ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কুয়েতে একটি তেল পরিশোধনাগারে হামলায় আগুন লাগে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্যাস স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং সৌদি আরব ও বাহরাইনেও হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলেও হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

লেবাননে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর ১৫ সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১১ লাখের বেশি মানুষ। মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ আল জাজিরা, রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au