অস্ট্রেলিয়ায় ছড়াচ্ছে নতুন কোভিড ধরন ‘সিকাডা’। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নতুন কোভিড-১৯ এর ধরন এখন অস্ট্রেলিয়াতেও দ্রুত সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ইতিমধ্যেই এই ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ দেখা গেছে, আর অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যেও এটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, “BA.3.2” বা সাধারণভাবে যাকে “সিকাডা” নামেও ডাকা হয়, এটি অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে না।
এই নতুন ধরন প্রথমবার কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপের কিছু অংশ ও যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সতর্কতার পাশাপাশি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
নতুন সংক্রমণের সংখ্যায় নিউ সাউথ ওয়েলসের অবস্থান শীর্ষে, যেখানে ১০,২৪৭ জনের শরীরে সিকাডা শনাক্ত হয়েছে। এরপরে কুইন্সল্যান্ডে ৬,৩৭৮ জন এবং ভিক্টোরিয়ায় ৩,৬৩৫ জন সংক্রমিত। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১,৯৩২ জন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ৭৭৩, অ্যাস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ২২৫, টাসমানিয়ায় ২৬৩ এবং নর্থার্ন টেরিটরিতে ১২৮ জনের মধ্যে এই ধরন শনাক্ত হয়েছে।
জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিকাডা ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রফেসর প্যাট্রিক রিডিং বলেছেন, “এটি প্রথমবার ২০২৫ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হয়েছিল এবং সম্প্রতি অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এর কারণে গুরুতর উপসর্গ, হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।”
সিকাডা ধরনের বৈশিষ্ট্য
সিকাডা ধরন ওমিক্রনের উপধরনের একটি বংশধর। এর স্পাইক প্রোটিনে পূর্ববর্তী ধরনের তুলনায় ৭০ থেকে ৭৫টি জেনেটিক পরিবর্তন রয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো ভাইরাসকে কোষে প্রবেশ এবং ইমিউন সিস্টেম থেকে পালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রফেসর রিডিং জানান, “সম্ভবত বর্তমান টিকা অন্যান্য সাধারণ ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় এই ধরনের বিরুদ্ধে ততটা কার্যকর নাও হতে পারে।”
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এটি বর্তমানে ডমিন্যান্ট বা প্রধান প্রবাহিত ধরন নয়। অর্থাৎ দেশের সংক্রমণের প্রধান ধারা এখনো অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত মানুষদের জন্য টিকাদান এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ঘরে বসে পরীক্ষা করা, অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকা, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং সংক্রমণ সীমিত করার অন্যান্য নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
প্রফেসর রিডিং বলেন, “টিকাদান এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। কমিউনিটিতে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারকে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতন হতে হবে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই মুহূর্তে পাঁচটি ওমিক্রন উপধরন মনিটর করছে, যার মধ্যে সিকাডা অন্যতম। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা তিনটি মূল ক্ষেত্রকে সবচেয়ে জরুরি মনে করছেন। প্রথমত, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকা ব্যক্তিদের টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি, যেমন মাস্ক ব্যবহার, ঘরে পরীক্ষা করা, অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। তৃতীয়ত, কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য, যাতে প্রতিটি পরিবার এবং সমাজের মানুষ সচেতন থাকলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
সূত্রঃ নাইন নিউজ