৫৪ বছর পর পৃথিবীর নতুন ছবি, ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল- প্রায় ৫৪ বছর পর আবারও পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে থেকে তোলা নতুন উচ্চ-রেজোলিউশনের দৃষ্টিনন্দন ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। আর্টেমিস-২ মিশন-এর নভোচারীরা চাঁদের পথে পৃথিবী ও চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থানে পৌঁছে এই ঐতিহাসিক ছবিগুলো ধারণ করেছেন।
মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মহাকাশযান ওরিয়ন মহাকাশযান-এর জানালা থেকে এসব ছবি তোলেন। নাসা জানিয়েছে, ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বা চূড়ান্ত ইঞ্জিন বার্ন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই ছবিগুলো ধারণ করা হয়, যা মহাকাশযানটিকে চাঁদের সঠিক পথে এগিয়ে দেয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল নাগাদ ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছিল, যা পৃথিবীর কক্ষপথের অনেক বাইরে। উৎক্ষেপণের প্রায় দুই দিন পাঁচ ঘণ্টা ২৪ মিনিট পর নভোচারীরা এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছান।
মিশনের আরেক নভোচারী ক্রিস্টিনা কখ জানান, এই মাইলফলকে পৌঁছানোর খবর পুরো দলের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ইঞ্জিন বার্নের পর সবাই জানালার দিকে তাকিয়ে মহাকাশের বিরল দৃশ্য উপভোগ করছিলেন।
প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের একটি ছবিতে পৃথিবীর বিশাল নীল জলরাশি আটলান্টিক মহাসাগর স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা বায়ুমণ্ডলের আলোকচ্ছটায় বেষ্টিত। একই সঙ্গে পৃথিবীর দুই মেরুতে সবুজ অরোরা বা মেরুজ্যোতির অপূর্ব দৃশ্যও ধরা পড়ে। ছবিতে বাম দিকে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরীয় উপদ্বীপ, আর ডানদিকে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ দেখা যায়। নিচের দিকে উজ্জ্বল একটি গ্রহও দৃশ্যমান, যেটিকে নাসা শুক্র গ্রহ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
আরেকটি ছবিতে পৃথিবীর দিন ও রাতের বিভাজন রেখা বা ‘টার্মিনেটর’ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। পরবর্তী ছবিতে দেখা যায়, অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীতে মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক আলোর ঝলক, যা মহাকাশ থেকে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে।

তখন ও এখন: ১৯৭২ সালে (ডানে) এবং ২০২৬ সালে (বামে) পৃথিবী।
এই মিশনটি এমন একটি পথে এগোচ্ছে, যা মহাকাশযানটিকে চাঁদের দূরবর্তী পাশ ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশন-এর পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছে।
উল্লেখ্য, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশন ৬ এপ্রিল চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করবে এবং ১০ এপ্রিল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।
নাসা জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এবারের ছবিগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও স্পষ্ট ও জীবন্ত। তবে সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, প্রযুক্তি যতই এগোক, মহাকাশ থেকে দেখা পৃথিবীর সৌন্দর্য এখনও আগের মতোই অপরিবর্তিত ও বিস্ময়কর।
সূত্র: বিবিসি