অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- তামিল টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুভাষিনীর মরদেহ চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাই এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটে।…
মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের একজন চিকিৎসককে অনলাইনে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি গোপনে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহকর্মী চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে ইহুদিবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী আক্রমণ চালাতেন।
অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম ডা. ওমর আজ্জাম। তিনি অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল পার্থ হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল বোর্ড অভিযুক্ত চিকিৎসককে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে একটি ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন স্থগিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পেশা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. আজ্জাম একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট দিতেন। এসব পোস্টে হামাস-সংশ্লিষ্ট প্রতীক, ইসরায়েল সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিদ্রূপ করার মতো বিষয়ও ছিল।
একজন সাবেক মিডওয়াইফ শ্যারন স্টোলিয়ার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অনলাইনে ডা. আজ্জামের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে পর্যন্ত ডা. আজ্জাম তার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত অনুসরণ করে প্রায় প্রতিটি পোস্টে মন্তব্য করতেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করতেন।
তার উদ্দেশ্যে করা কিছু মন্তব্য ছিল সরাসরি অপমানজনক। যেমন তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, “আমি তোমাকে কয়েকটা নিউরন দিতে পারি, এতে তোমার মোট পাঁচটা হবে।” স্টোলিয়ারের ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য স্পষ্টভাবে বর্ণবাদী এবং এতে রঙিন মানুষদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে।
স্টোলিয়ার নিজে ইহুদি নন, তবে তিনি একজন ইসরায়েলি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ এবং প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি জানান, একটি বেনামি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডা. আজ্জামের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পর তিনি তার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর নাম পরিবর্তন করেন এবং নিজের প্রোফাইল ছবিও বদলে ফেলেন।
এদিকে মাতৃত্ব বিষয়ক একটি ভোক্তা সংগঠন স্টোলিয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে বর্ণবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা জানালে ডা. আজ্জাম ওই সংগঠনের পেজেও ব্যাপকভাবে পোস্ট করা শুরু করেন।
স্টোলিয়ার জানান, ২০২৫ সালের মার্চে তিনি প্রথম অভিযোগ দায়ের করার পর ডা. আজ্জামের আচরণ আরও বাড়ে। তিনি নতুন নতুন ভুয়া পরিচয়ে ফিরে এসে সমর্থকদের নিয়ে উপহাস করেন এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ বলে উড়িয়ে দেন। পরে তার অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে আরও অনেক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একই ধরনের হয়রানির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা কোভিড মহামারির সময়েও ঘটেছে বলে জানা যায়।
স্টোলিয়ার বলেন, রোগীরা এমন চিকিৎসক পাওয়ার যোগ্য, যারা সম্মানজনক আচরণ করবেন, কোনও ধরনের পক্ষপাত নয়। একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছ থেকে কেউ বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হতে পারে না। তার ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড শুধু পেশাগত নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনই নয়, বরং চরমভাবে বর্ণবাদী, আপত্তিকর ও হয়রানিমূলক।
রয়্যাল পার্থ হাসপাতাল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে জানা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের জুলাই থেকেই ডা. আজ্জামের আচরণ সম্পর্কে অবগত ছিল। তখন এক ইহুদি চিকিৎসক হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টরের কাছে তার বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানির অভিযোগ করেন।
ওই চিকিৎসক জানান, তিনি কখনও ইসরায়েল বা জায়নবাদ নিয়ে কোনও পোস্ট করেননি এবং ডা. আজ্জামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল না। তবুও তাকে ফেসবুকে ৩০টির বেশি বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে শুধু ফিলিস্তিনি পতাকার ছবি ছিল। কারণ জানতে চাইলে ডা. আজ্জাম জবাব দেন, তিনি নাকি মানুষের কাছে সুন্দর ছবি পাঠাতে পছন্দ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই চিকিৎসক বলেন, তাকে আলাদাভাবে টার্গেট করা হয়েছে সম্ভবত বিভিন্ন ইহুদি গ্রুপে নজরদারি করার কারণে। তিনি আরও জানান, ডা. আজ্জাম ইহুদি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন কর্মীকেও একইভাবে হয়রানি করছিলেন।
তার দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কিছুটা জানলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে গত অক্টোবরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান নির্বাহী জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক বৈষম্যের অভিযোগ হিসেবে ১৮৮টি নোটিশ পাওয়া গেছে, যা ৯৫ জন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং পেশাগত নৈতিকতা ও সামাজিক আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রঃ ডেইলি মেইল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au