মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়ে দুঃখপ্রকাশের পর নর্থ কোরিয়ার তুলনামূলক নমনীয় প্রতিক্রিয়াকে সামরিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সিউল। মঙ্গলবার দেশটির একীকরণ মন্ত্রণালয় এ মূল্যায়ন তুলে ধরে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সাউথ কোরিয়া তার অবস্থান ধরে রাখবে এবং নর্থ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থানকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে নর্থ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং প্রেসিডেন্ট লির দুঃখপ্রকাশকে “খুবই সৌভাগ্যজনক ও বিচক্ষণ” বলে মন্তব্য করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, সাউথ কোরিয়ার উচিত নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের কোনো প্রচেষ্টা না করা।
সোমবার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি জানান, বেসামরিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত একাধিক ড্রোন নর্থ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করায় অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা এবং একজন সক্রিয় সামরিক সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যা দেশের সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।
সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক বলেন, এই দুঃখপ্রকাশ উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন। তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নেন বলে তিনি জানান।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নর্থ কোরিয়া এখনও সাউথ কোরিয়াকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং পুনর্মিলনের ধারণা থেকে সরে এসে দুই কোরিয়াকে পৃথক ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে সাময়িক ইতিবাচক সংকেত মিললেও সম্পর্কের স্থায়ী উন্নতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।