জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে একদিনে ৯১টি বিল পাস
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে একদিনেই মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)…
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বর্তমানে সিঙ্গাপুর সফরে রয়েছেন। সফরকালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর বিশ্বে অন্যতম বড় তেল পরিশোধন কেন্দ্র। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের একটি বড় উৎস, বিশেষ করে পেট্রোল সরবরাহে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুরের জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ থাকার কারণে দেশটির রিফাইনারিগুলোতে কাঁচা তেলের সরবরাহ কমে গেছে, ফলে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে তারা।
সাধারণত সিঙ্গাপুরের তেল পরিশোধন শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচা তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এ রুটে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসে অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অস্ট্রেলিয়া চায় না, তারা সেই তালিকায় পড়ুক। তাই আগেভাগেই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সমঝোতা জোরদার করতে চাইছে দেশটি।
এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে, তা হলো তাদের বিপুল তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ। সিঙ্গাপুরের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এই গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে একটি বড় বাস্তবতা হলো, সিঙ্গাপুরের তেল পরিশোধনাগুলো সরকারি নয়, বরং বেসরকারি কোম্পানির মালিকানাধীন। ফলে তারা কাকে কত জ্বালানি দেবে, সে সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিগুলোই। এ কারণে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এডিথ কাউয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফ্লাভিও মাকাউ মনে করেন, এই সফর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, যখন নিজের মজুত কম থাকে, তখন মিত্র দেশের ওপর নির্ভর করতেই হয়। তাই সম্পর্ক শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সংকট দেখা দিলে সিঙ্গাপুর যখন তাদের রপ্তানি পুনর্বিন্যাস করবে, তখন অস্ট্রেলিয়া অগ্রাধিকার পেতে পারে।
এদিকে জ্বালানি অর্থনীতি বিশ্লেষক কেভিন মরিসন জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া একা নয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশই এখন বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে। দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে কাজাখস্তান, ওমান ও সৌদি আরবে বিশেষ দূত পাঠিয়েছে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে। একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া সফরে আসবেন, যেখানে জ্বালানি ইস্যু প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলের বহু দেশই এখন তেলের ঘাটতিতে পড়েছে এবং একই সঙ্গে নতুন সরবরাহ খোঁজা ও বিদ্যমান সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে জ্বালানি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই সিঙ্গাপুর সফর শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au