অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ, বিশৃঙ্খলা আর প্রতারণার মধ্যেও হাতে গোনা যে কয়েকজন চিকিৎসক নিজেদেরকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন- তাদের মধ্যে অন্যতম মুখ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। বিনা পারিশ্রমিকে কয়েক হাজার রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করে যিনি পেয়েছেন ‘মানবিক ডাক্তার’- এর খ্যাতি। মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ সেই চিকিৎসক চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির যুব সংগঠন- যুবদলের এক নেতার অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন।
জানা গেছে, চাঁদা না পেয়ে ডাক্তার কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈন।
শনিবার প্রকাশিত একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত এক ব্যক্তিকে বারবার ধমক দিচ্ছেন আরেক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভেতরে ঢুকে সৃষ্টি করেছেন আতঙ্ক।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে নিশ্চিত হয়েছে, হুমকি দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম মঈন উদ্দিন মঈন। তার সঙ্গে আছে চাঁদাবাজির চক্রের আরেক সদস্য মাঈনুদ্দিন।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করছিল চক্রটি। কখনো ভয়-ভীতি দেখানো, কখনো আবার রাজনৈতিক প্রভাব সামনে এনে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি জিডিও করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কামরুল ইসলাম মনে করেন, তার প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো এই চাপ শুধু ব্যক্তিগত নয়, জনস্বার্থের জন্যও উদ্বেগজনক। মানবিক চিকিৎসা উদ্যোগকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈনের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সিকেডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।
জানা গেছে, হাসপাতালে খাবারের সরবরাহ কেন্দ্র করেই মূলত এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। মঈনকে টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তা বাহিনী। এরপর থেকেই চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত পক্ষকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থানায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। তবে আমাদের কাছে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ করা হয়নি।”
রাজধানী শ্যামলীতে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের হাতে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতাল দুই দশক ধরে কিডনি চিকিৎসায় অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
কিডনি প্রতিস্থাপনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২২ সালে দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদক লাভ করেন তিনি। সেই চিকিৎসকের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেন