নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগামী সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
রোববার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৮টা (মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে। এতে ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান উপসাগর ঘিরে থাকা ইরানি বন্দরের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।
তবে সেন্টকম স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের চলাচলে তারা বাধা দেবে না। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার তুলনায় কিছুটা সীমিত পরিসরে অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে পুরো হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং ইরানকে শুল্ক দেওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণাকে ঘিরে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য এবং সেন্টকমের ঘোষণার মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকায় বাস্তবে এই অবরোধ কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অবরোধের হুমকির পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলারের বেশি হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কার্যত ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ইরান নিজেদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখলেও অন্যান্য দেশের জাহাজ সীমিত আকারে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালীতে শুল্ক আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।
তারা সতর্ক করে বলেছে, কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ ইরানের দিকে অগ্রসর হলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়াই এই উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার প্রধান কারণ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে বলেছেন, যখন সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, তখনই মার্কিন পক্ষ অবস্থান পরিবর্তন করে এবং আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জোহরে খারাজমি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা নির্ধারণ করার অবস্থানে নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই অবরোধ ইরান ও বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে এক ধরনের সহনশীলতার লড়াইয়ে পরিণত হয়, তাহলে খুব দ্রুতই বোঝা যাবে কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না এবং কৌশলগতভাবে এই সংঘাতে জয়লাভ করা তাদের জন্য সহজ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au