‘মার্কিন অবরোধের হুমকিতে বন্ধ হতে পারে ইরানের তেল বিক্রি’
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ইরানের তেল…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা স্থায়ী কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপর আবারও বিমান হামলার বিকল্প খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি বাধা দেওয়া হবে না। তবুও এই উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৩৭ ডলারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা এখনো চলছে। ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকির কাছে তেহরান মাথা নত করবে না। একইসঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি অবস্থান জানাতে গিয়ে মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে সব বিকল্প পথ খোলা রেখেছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোর অনেকটাই অনুমানভিত্তিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজকে অবরোধ করবে। একইসঙ্গে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনার ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়তে রাজি নয়।
ওয়াশিংটনের কাছে মেরিল্যান্ডে অবস্থিত জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে তার কিছু আসে যায় না। তার ভাষায়, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তা কোনোভাবেই হতে দেবে না।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ, বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং অবরোধ আরোপের কারণে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইরানের অভ্যন্তরেও পড়ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। সাইবার হামলার ঝুঁকি দেখিয়ে সরকার এই পদক্ষেপ নিলেও সাধারণ মানুষ এতে ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে যারা অনলাইনভিত্তিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।
বর্তমানে ইরানে সীমিতসংখ্যক অনুমোদিত ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন, যাদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, সরকার সমর্থক ব্যক্তি, কিছু সাংবাদিক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে ব্যয়বহুল স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্টারলিংক-এর মতো সেবার মাধ্যমে প্রতি গিগাবাইট ইন্টারনেটের জন্য প্রায় ছয় ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে, যা দেশটির গড় আয়ের তুলনায় অত্যন্ত বেশি।
এছাড়া অনুমতি ছাড়া স্টারলিংক ব্যবহারের অভিযোগে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত ডিভাইস জব্দ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au