চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদংকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও তুরস্কভিত্তিক প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম নর্থইস্ট। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকার একটি টেক্সটাইলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাকিস্তানি সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি বেসরকারি প্রতিরক্ষা কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী চার সদস্যের একটি দল ঢাকায় এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেছে। গত ২৯ মার্চ তারা সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে অবস্থিত স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস এবং সেনাবাহিনীর মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে।
তাদের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নেওয়া এবং মাউন্টিং সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, যাতে শিবলি ইলেকট্রনিক্সের তৈরি দৃষ্টিনির্ভর যন্ত্রপাতি বা ‘সাইট’ ব্যবহারের জন্য উপযোগী কাস্টমাইজড মাউন্ট তৈরি করা যায়। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয় করা হয়।
এই সফরের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ শাখা থেকে চার পাকিস্তানি নাগরিক সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ, মুহাম্মদ মুনাম নাসির, নুমান বাট ও মুহাম্মদ আসাদ জামান নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তারা ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অবস্থান করেন।
পরবর্তীতে জানা যায়, ওই প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য আবারও ঢাকায় এসে কুর্মিটোলা গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন এবং আরও একজন পাকিস্তানি নাগরিক তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। একই গেস্ট হাউস থেকে ৯ এপ্রিল ভোরে তিন তুর্কি নারী নাগরিকও চলে যান, যা পুরো বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অনাগ্রহ দেখা গেলেও প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিষয়টি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাভিত্তিক নাফিসা এন্টারপ্রাইজ এবং ইসলামাবাদভিত্তিক শিবলি ইলেকট্রনিক্সের মধ্যে চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে।
নাফিসা এন্টারপ্রাইজ ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান, যা আমদানি, সরবরাহ এবং বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত পণ্য ও সেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার জন্য পণ্য সরবরাহ করে থাকে।
অন্যদিকে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবলি ইলেকট্রনিক্স বৈশ্বিক নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি খাতে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরি করে, যার মধ্যে রয়েছে নজরদারি যন্ত্র, দূরপাল্লার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, সীমান্ত ও উপকূলীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং মানববিহীন বিমান।
নাফিসা এন্টারপ্রাইজের প্রধান হিসেবে হারুন অর রশীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টেক্সটাইল কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে। ঢাকার মহাখালীতে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করা সম্ভব।
তারা আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ক্রয় অধিদপ্তর, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন সংস্থায় সরঞ্জাম সরবরাহের লাইসেন্স তাদের রয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা টেক্সটাইল রং ও সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক পণ্যকে ঘিরে হলেও প্রতিরক্ষা খাতে তাদের এই সম্পৃক্ততা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানি ও তুর্কি নাগরিকদের উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি একদিকে আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলে, অন্যদিকে ভিন্ন কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তবে তা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au