চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদংকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- অপশক্তি আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শিকড় বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এর সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সমাজে এমন একটি পরিবেশ দরকার, যেখানে সবাই নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে, সংস্কৃতির সব প্রকাশ নির্বিঘ্ন থাকবে এবং বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করবে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সারওয়ার আলী বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তা উন্মোচনের একটি বিশেষ দিন। গত ছয় দশকের মতো এবারও এই দিনে মানুষ অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর রমনায় নববর্ষ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হলেও এর আগে ও পরে সাংস্কৃতিক পরিসরে নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয় দিবসের আয়োজনের পরপরই ছায়ানটের সংস্কৃতি ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়, বাদ্যযন্ত্র ও শিশুদের বইপত্র নষ্ট করা হয়। একই সময়ে দেশের দুইটি শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরদিন সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ওপর হামলার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। এছাড়া ২০০১ সালে রমনার বটমূলে সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ছায়ানট সভাপতি বলেন, সংগীত বাঙালির আনন্দ, বেদনা, মিলন-বিরহ এবং সংকটের সঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে অধিকার অর্জনের প্রতিটি আন্দোলনে গান মানুষকে শক্তি যুগিয়েছে। এই গানই সব ধর্ম ও জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অপশক্তি এই সংগীতচর্চাকে ভয় দেখিয়ে বাধাগ্রস্ত করতে চায় এবং আবহমান বাংলা গানকে তার শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং নিজের মত প্রকাশের কারণে দলবদ্ধ নিগ্রহের শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এবং এই প্রেক্ষাপটে নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই বিশ্বশান্তি কামনা করছে।
সারওয়ার আলী বলেন, এমন একটি সমাজের স্বপ্ন তিনি দেখেন, যেখানে সাংবাদিকসহ সব মানুষ নির্ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারবেন, সংস্কৃতির সব ধারা মুক্তভাবে বিকশিত হবে এবং মানুষ শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করবে। তিনি কবিগুরুর পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, এমন সমাজই কাঙ্ক্ষিত, যেখানে চিত্ত হবে ভয়শূন্য, জ্ঞান হবে মুক্ত এবং গৃহের প্রাচীরও মুক্ত হবে।
এদিকে ভোরে ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ বরণে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au