চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
উত্তর মেসিডোনিয়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫৯ জন নিহত এবং ১০০ এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কোচানিতে অবস্থিত ‘পালস’ নামক একটি নাইটক্লাবে। জনপ্রিয় হিপ-হপ ডুও ‘ডিএনকে’র কনসার্ট উপভোগ করতে সেখানে শতাধিক তরুণ-তরুণী জমায়েত হয়েছিলেন।
ক্লাবটিতে মঞ্চে আতশবাজি ব্যবহারের সময় আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানায়, মঞ্চে ব্যবহৃত আতশবাজি থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ ছাদে লাগে, যা দ্রুতজ্বলনশীল স্টাইরোফোম দিয়ে তৈরি ছিল। এরপরই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
একজন তরুণ কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন, তিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেন, “আমি একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি এবং তারপরই ছাদ ভেঙে পড়ে। সবাই একসাথে বের হওয়ার জন্য দৌড়াতে শুরু করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন ক্লাবটিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য শুধুমাত্র একটি দরজা ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
আহতদের মধ্যে ১৫৫ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিছু গুরুতর আহতকে ইউরোপের অন্যান্য দেশের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী প্যান্সে তোস্কোভস্কি জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন এবং আহতদের মধ্যে ২০ জনের বেশি নাবালক ছিলেন।
কর্তৃপক্ষের তদন্তে উঠে এসেছে ক্লাবটির বৈধ লাইসেন্স নেই। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী বলেন, “এই ক্লাবের লাইসেন্স জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। যারা অবৈধভাবে লাইসেন্স ইস্যু করেছেন, তাদের নাম জানা গেছে এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
এই ঘটনায় ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ক্লাবের মালিক, ইভেন্ট আয়োজক এবং ডিএনকে ডুওয়ের সদস্যদেরও সন্দেহভাজন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
কোচানি হাসপাতালের প্রধান ক্রিস্টিনা সেরাফিমোভস্কা জানান, “অধিকাংশ মৃতই আতঙ্কে দৌড়ানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে ৭০ জনের শরীরে পোড়া ও কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া রয়েছে।”
দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিজান মিকোস্কি এই ঘটনাকে “দেশের জন্য একটি কঠিন ও দুঃখজনক দিন” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “এত তরুণ প্রাণের ক্ষতি অপূরণীয়। তাদের পরিবার, প্রিয়জন ও বন্ধুদের শোকের কোনো শেষ নেই।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরকার সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সকল সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, দেশের সকল নাইটক্লাব, ডিস্কোথেক এবং রেস্তোরাঁর জরুরি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পোপ ফ্রান্সিসও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ভ্যাটিকান থেকে স্কোপজের বিশপ কিরো স্টোজানোভের কাছে পাঠানো বার্তায় পোপের প্রার্থনা ও সমবেদনার কথা জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, কনসার্টের সময় মঞ্চে ‘স্টেজ ফাউন্টেন’ নামক এক ধরনের ইনডোর আতশবাজি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা আগুনের সূত্রপাতের কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য ভিডিওতে দেখা গেছে, কোচানির এই দ্বিতল ভবনটি ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।
এই ঘটনা উত্তর মেসিডোনিয়ায় গভীর শোক ও বেদনার ছায়া ফেলেছে। এখনও অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনদের খোঁজে হাসপাতালে ঘুরছেন, আশা করছেন তাদের সন্তান বা বন্ধু বেঁচে আছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au