চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে বেইজিং।
সোমবার অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং ইতোমধ্যে নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।”
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার ব্যর্থতার পরপরই এই অবরোধ কার্যকর হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, চীন ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারে-এমন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেরও জোরালোভাবে প্রতিবাদ করেছেন গুয়ো জিয়াকুন। তিনি এসব তথ্যকে “সম্পূর্ণ মনগড়া” বলে উল্লেখ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেইজিং যদি তেহরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
এর জবাবে চীনের পক্ষ থেকে পাল্টা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে এগোয়, তবে চীন “দৃঢ় পাল্টা ব্যবস্থা” নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও চীনের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্রঃ বিবিসি