মমতার গলার কাঁটা হয়ে ভোটের সাত দিন আগে দল ছাড়লেন বিদায়ী বিধায়ক
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এক জটিল অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মধ্যে জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অবসরে পাঠানো, আটক এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে নর্থইস্ট নিউজে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শুরু হওয়া ঘটনাগুলো ধাপে ধাপে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ডেকে পাঠান এবং তাকে জানান, সেদিনই তাকে অবসরে পাঠানো হবে। পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ঢাকার বাসার রোডের ‘নক্ষত্র’ নামের নির্ধারিত আবাসনে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। হঠাৎ অবসরের সিদ্ধান্তে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ফিরে যান, যেখানে কিছুক্ষণ পর তার বোন নাজনীন নাহার উপস্থিত হন।
সেই রাতেই তৎকালীন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল হামিদুল হক তাকে ফোন করে সতর্ক করেন যে তার ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি চলছে। তবে তিনি এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরদিন ৭ আগস্ট রাতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে তার বাসা থেকে নিয়ে যান এবং ক্যান্টনমেন্টের নির্জন আবাসিক এলাকায় একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়, যেখানে তিনি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অবস্থান করেন।
এ সময় তার গ্রেপ্তার নিয়ে ভিন্ন একটি তথ্য ছড়ানো হয়, যেখানে বলা হয় তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন। এদিকে তার বোন সেনাপ্রধানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। ১৫ আগস্ট তাকে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার একাধিক অভিযোগ আনা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা করছিলেন যে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং এসব তথ্য ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। এনটিএমসি রাষ্ট্রের সংবেদনশীল তথ্য ও যোগাযোগের ওপর নজরদারির দায়িত্ব পালন করে, ফলে এই সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেজর জেনারেল আহসানকে ধানমন্ডির একটি ‘নিরাপদ বাড়িতে’ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাপ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো হয় এবং রাজি না হলে পরিবারের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার বোন নাজনীন নাহার জানান, এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং পরিবারের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাবেক পুলিশ প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুনকেও একইভাবে চাপ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকেও সাক্ষী করার চেষ্টা করা হয়। তার দেওয়া সাক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তা অসঙ্গত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতীতে বিচ্ছিন্নতাবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কিছু সেনা কর্মকর্তা এখন উল্টো মামলার আসামি হিসেবে আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au