বাংলাদেশ

১১২টি ঘটনা, ২৯ জেলা, ২০টি হত্যা, ৬টি ধর্ষণ; প্রতিদিন গড়ে ১.২টি সহিংসতা

নিরাপত্তার নামে ফাঁকা বুলি: বাংলাদেশে ৩ মাসে ২০ সংখ্যালঘু হত্যা

বিশেষ প্রতিবেদন:

  • 1:03 pm - May 02, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১০৪ বার
বাংলাদেশে ৩ মাসে ২০ সংখ্যালঘু হত্যা। ছবিঃ ওটিএন বাংলা

মেলবোর্ন, ২ মে: ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের শেষ তিন মাস-ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল-বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এক নিরবচ্ছিন্ন ভয়ের গল্প রচনা করেছে। সনাতনী রিসার্চ অ্যান্ড আইটি লিমিটেডের যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, এই ৯০ দিনে দেশের ২৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়া ১১২টি স্বতন্ত্র সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১.২টি করে ঘটনা। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের তালিকা নয়; এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতার ধারাবিবরণী, যেখানে মন্দির পুড়ছে, চুরি হচ্ছে, জমি দখল হচ্ছে, নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন, আর মুক্তিযোদ্ধা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার পরিবার–কেউই নিরাপদ নয়। এই তিন মাসে ২০টি হত্যা, ৬টি ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা, ২৬টি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, এবং ২৮টি চুরি ও লুটপাট রেকর্ড করা হয়েছে। 

এই প্রতিবেদনে তারিখ, জেলা, ঘটনার ধরন এবং নৃশংসতার মাত্রা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে- সংখ্যালঘু নিরাপত্তা কি সত্যিই রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে, নাকি এটি কেবলমাত্র সংবাদ শিরোনামে সীমাবদ্ধ একটি বিষয়?

ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে–৪৪টি। মাসটি শুরু হয় চুরি ও দখলের ঘটনা দিয়ে, কিন্তু শেষ হয় গণধর্ষণ ও একাধিক হত্যার ভয়াবহতায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটে শিব চতুর্দশীর মেলায় ছদ্মবেশী চুরির ঘটনায় তিনজন আটক হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ছয়টি ঘটনা ঘটে। সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে কুরআন অবমাননার নাটক সাজানোর অভিযোগে এক মুসলিম আটক হন। রাজশাহীতে ১৪৪ বছরের পুরনো শিব মন্দিরের রাস্তা দখলের অভিযোগ ওঠে। ফেনীর সোনাগাজীতে বসতবাড়ি উচ্ছেদের পায়তারা এবং একই এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দু ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুরে মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি করে দুই দানবাক্স ভাঙচুর করা হয়। আর সবচেয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটে বগুড়ায় মাত্র ৫০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ার অপরাধে এক হিন্দু যুবককে খুন করা হয়। এই একটি দিনই প্রমাণ করে দেয়, কত ক্ষুদ্র কারণেও প্রাণহানি ঘটতে পারে সংখ্যালঘুদের জন্য।

১৯ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মানিক চন্দ্র রায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। বরিশালের আগৈলঝাড়ে এক হিন্দু যুবকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং খুলনার দৌলতপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুব্রত অধিকারীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। ২১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রক্ষাকালী মন্দিরে চুরির পাশাপাশি গাইবান্ধার এক বিধবা নারীকে স্বামী হত্যার আসামি ধরতে বলায় লাথি মারতে চান থানার ওসি–পুলিশের এক কর্মকর্তার এই আচরণ দেশের আইনশৃঙ্খলা কাঠামোয় ফাটল ধরা প্রমাণ করে। ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেটে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। ভোলার তজুমদ্দিনে কীর্তন অনুষ্ঠানে আসা ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু নারী গণধর্ষণের শিকার হন। একই দিনে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালানো হয় এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ভোলায় হিন্দু নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সংসদ সদস্যের বাসভবনের পাশের হিন্দু পাড়ায় গরু চুরিতে বাধা দেওয়ায় সনাতনী বৃদ্ধ চন্দন কুমার দে, যার বয়স ৭০ বছর, নিহত হন। একই জেলার সাগরিকায় আরেক হিন্দু যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর দশমিনায় গভীর রাতে এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। আর বরগুনা সদরে একটি হিন্দু পরিবারের জমি দখল করে মডেল মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, যা ধর্মীয় স্থাপনার নামে জমি দখলের নতুন মাত্রা দেখায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল ফেব্রুয়ারির সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন–সাতটি ঘটনা একসঙ্গে। ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে বনকালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। রূপগঞ্জে রক্ষা কালীমাতা মন্দিরে ভাঙচুর হয়। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সুনীল মন্ডলের পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের মানববন্ধনে হামলায় নারীসহ ১০ জন আহত হন। সবচেয়ে নৃশংস–চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সংসদ সদস্যের বাসভবনের পাশের হিন্দু পাড়ায় গরু চুরিতে বাধা দেওয়ায় সনাতনী বৃদ্ধ চন্দন কুমার দে, যার বয়স ৭০ বছর, নিহত হন। একই জেলার সাগরিকায় আরেক হিন্দু যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মতলবে হিন্দু বিয়ে বাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত হন পাঁচজন, যা প্রমাণ করে যে সহিংসতা এখন আনন্দ ও উৎসবকেও ছাড় দেয়নি।

মার্চ ২০২৬: হত্যার রেকর্ড মাস (১১টি হত্যা)

মার্চ মাসে ৩৫টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়, এবং ফেব্রুয়ারির তুলনায় সংখ্যা কমলেও নৃশংসতার মাত্রা ও হত্যার সংখ্যা–১১টি–ছিল তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। হত্যার পদ্ধতিও বদলায়–গলা কাটা, অর্ধগলিত মরদেহ, পুকুরে ফেলা। ১ মার্চ পটুয়াখালীর দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের মাধ্যমে মাস শুরু হয়। ২ মার্চ চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় রূপালী ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী অঞ্জন মল্লিকের মরদেহ উদ্ধার, খুলনার পাইকগাছায় জানাত শিবিরের জমি দখল এবং ফেনীর দাগনভূইয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ৬ মার্চ ঢাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফারাবীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়, যা ধর্মীয় উসকানির রাজনৈতিক মাত্রা দেখায়। ৭ মার্চ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কোচিং সেন্টারের পরিচালক চয়ন রাজভরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়–শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির হত্যা অভিভাবক মহলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ৮ মার্চ কুমিল্লা সিটির মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ এবং কক্সবাজারে চাঁদা না দেওয়ায় এক হিন্দু চা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লায় শনিপূজা চলাকালীন বোমা বিষ্ফোরণ। ছবিঃ ওটিএন বাংলা

মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সহিংসতা আরও প্রসার লাভ করে। ৯ মার্চ ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁদা না দেওয়ায় রাম মজুমদারকে মারধর ও জমির ঘাস লুট এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিকাশ এজেন্টের ওপর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১০ মার্চ সাতক্ষীরা সদরের সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে সোনাসহ মূল্যবান সম্পদ লুট হয়। ১১ মার্চ যশোর সদরে চাঁদা না দেওয়ায় সোমা সাহার ওপর হামলা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ ওঠে। ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে হিন্দুদের শ্মশানের ওপর স্থাপনা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আসে, যা ধর্মীয় ভাবাবেগ ও ভূমি অধিকার উভয়কেই আঘাত করে। ১৪ মার্চ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলায় নারীসহ আহত হন চারজন। ১৫ মার্চ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দিন–একসঙ্গে ছয়টি ঘটনা। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভাড়া বাসা থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাইভেট পড়ানোর সময় এক হিন্দু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে এক হিন্দু যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার হয়। চট্টগ্রামের এক নম্বর গেট এলাকায় রমজানে দোকানের ভেতরে রুটি খেতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে অপমান ও ধর্ম জানার পর দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আসে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

১৯ মার্চ বরিশালের গৌরনদীর টরকী বন্দরের লোকনাথ মন্দিরে চুরি, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গীতা মন্দিরে সাতটি কক্ষের তালা ভাঙচুর ও চুরি এবং ফরিদপুরে ধানখেত থেকে এক হিন্দু যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

১৬ মার্চ আরও তিনটি হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নোয়াখালীতে পুকুর থেকে ওষুধ ব্যবসায়ী রঞ্জন কুরীর মরদেহ উদ্ধার হয়। খুলনার পাইকগাছায় এক পুলিশ কর্মকর্তার মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঝালকাঠিতে সংখ্যালঘু পরিবারকে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ মার্চ বরিশালের বেতাগীতে মন্দিরে চুরির হিড়িক শুরু হয়–স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায় আতঙ্কে সময় কাটায়। ১৮ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবক আটক হয়, যদিও পরিবারটি একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে। একই দিনে মৌলভীবাজারে পুকুর থেকে হিন্দু যুবক দীপন মালাকারের মরদেহ উদ্ধার হয় এবং ঠাকুরগাঁওয়ে রাতের আঁধারে ৬ শত কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে, যা কৃষিজ সম্পদের ওপর হামলার একটি নতুন উদাহরণ। ১৯ মার্চ বরিশালের গৌরনদীর টরকী বন্দরের লোকনাথ মন্দিরে চুরি, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গীতা মন্দিরে সাতটি কক্ষের তালা ভাঙচুর ও চুরি এবং ফরিদপুরে ধানখেত থেকে এক হিন্দু যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

২৫ মার্চ চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা জগ্যেশ্বর জলদাস ও তার ভাইয়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়–রাষ্ট্রের একজন বীরযোদ্ধার নিরাপত্তাও যে নেই, তা প্রমাণিত হয়। ২৬ মার্চ মাদারীপুরে বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়–আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের পরিবারও যে নিরাপদ নয়, তা নিদারুণভাবে প্রতীয়মান হয়। ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আরেক হিন্দু যুবক আটক হয়।

এপ্রিল ২০২৬

এপ্রিল মাসে ৩৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যেখানে ২১টি জেলা জুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মার্চের তুলনায় হত্যার সংখ্যা কমলেও–৪টি–নৃশংসতার মাত্রা ও প্রকাশ্যতা ছিল ভয়াবহ। ১ এপ্রিল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরওয়াডেল এলাকায় হিন্দু ব্যবসায়ী উজ্জ্বল কর্মকারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ সদরে ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক কিশোর গ্রেপ্তার হয়, এবং একই দিনে ঢাকার সাভারের ধলেশ্বরী এলাকায় ৪২টি সংখ্যালঘু পরিবার তাদের ভিটেমাটি রক্ষার জন্য আকুতি জানায়। ৯ এপ্রিল নড়াইলের কালিয়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ আচার্যকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ১০ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি মন্দিরে চুরি ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, এবং একই দিনে বগুড়ার আদমদীঘিতে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সন্দেহজনক নাশকতার অভিযোগ ওঠে।

সাভারে উচ্ছেদের আতঙ্কে ৪২ সংখ্যালঘু পরিবার। ছবিঃ সংগৃহীত

১১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে। ১২ এপ্রিল রাউজানের নোয়াজিষপুরে মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। ১৩ এপ্রিল ফেনীর পরশুরামে ধর্মান্তরের চাপ ও আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে হৃদয় বনিকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসে। ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের রামুতে মন্দিরে পূজার ফুল তুলতে যাওয়া এক বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৫ এপ্রিল হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পাহারাদারকে মারধর করে কালী মন্দিরে চুরি এবং একই দিনে ঢাকার সাভারের রাজফুল বাড়িয়ায় বাংলা নববর্ষের দিনে সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে–বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন সহিংসতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর ফাটল উন্মোচিত করে।

চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা। ছবিঃ সংগৃহীত

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহটি ছিল বিশেষভাবে নৃশংস। ২২ এপ্রিল কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকায় নয়ন দাশকে পুড়িয়ে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে–এটি এপ্রিলের সবচেয়ে নৃশংস ও প্রতীকী সহিংসতা। ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের সন্দীপে এক হিন্দু প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগ সামনে আসে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপি নেতা বলে দাবি করা হচ্ছে। ২৫ এপ্রিল বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে একটি মন্দিরে চুরি ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

১৭ এপ্রিল একসঙ্গে পাঁচটি জেলায় পৃথক ঘটনা রেকর্ড করা হয়। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে শ্মশান থেকে খুলি চুরির ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরার আশাশুনিতে মুজুরীর টাকা চাওয়ায় এক নারী শ্রমিককে পিটিয়ে জখম করা হয়। হবিগঞ্জের মাধবপুরে মন্দিরে দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিধবা কল্যাণী মন্ডলের বসতভিটা দখলের চেষ্টা চলে। সিরাজগঞ্জের চান্দাইনকোনায় মন্দিরের জায়গা দখল করে মাদ্রাসা তৈরির অভিযোগ ওঠে। ১৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি হিন্দু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি এবং মাদারীপুরে ট্রাক নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৯ এপ্রিল বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক হিন্দু গৃহবধূর শ্লীলতাহানি এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটে। ২০ এপ্রিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আদিবাসী নৃগোষ্ঠীর বাসাবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং শ্মশানকালী মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা একটি বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহটি ছিল বিশেষভাবে নৃশংস। ২২ এপ্রিল কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকায় নয়ন দাশকে পুড়িয়ে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে–এটি এপ্রিলের সবচেয়ে নৃশংস ও প্রতীকী সহিংসতা। ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের সন্দীপে এক হিন্দু প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগ সামনে আসে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপি নেতা বলে দাবি করা হচ্ছে। ২৫ এপ্রিল বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে একটি মন্দিরে চুরি ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

খুরুশকুলের গহীন জঙ্গলে আঁধাপোড়া এবং গাছে ঝুলানো অবস্থায় নয়ন সাধুর বিভৎস মরদেহ। ছবিঃ সংগৃহীত

২৬ এপ্রিল এক দিনে চারটি বড় ঘটনা ঘটে–কুমিল্লা সদরে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করে র্যাব; হবিগঞ্জ শহরের কালীগাছতলা কালীবাড়িতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার ও দানবাক্স লুট হয়; হাতিয়ায় দোকান ও বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে; এবং বগুড়ার শিবগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই নারীকে বেঁধে বাড়িতে ডাকাতি করা হয়। ২৭ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদরে এক দোকানিকে খুন করা হয়; দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে বিষ্ণু মন্দিরে তালা ভেঙে স্বর্ণ ও রৌপ্য চুরির ঘটনা ঘটে; এবং নওগাঁর পত্নীতলায় মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। ২৮ এপ্রিল ভোলার মনপুরায় এক হিন্দু দম্পতিকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠে–এটি এপ্রিলে দ্বিতীয়বার গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা। ২৯ এপ্রিল কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে এক হিন্দু ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা মাসের শেষেও সহিংসতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

তিন মাসের পরিসংখ্যান: এক নজরে ১১২টি ঘটনা

ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল ২০২৬-এ সংখ্যালঘু নির্যাতনের হিসাব

এই তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে ১১২টি ঘটনার পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে এই রকম: ফেব্রুয়ারিতে ৪৪টি, মার্চে ৩৫টি ও এপ্রিলে ৩৩টি ঘটনা। এর মধ্যে হত্যা ছিল ২০টি–ফেব্রুয়ারিতে ৫টি, মার্চে ১১টি ও এপ্রিলে ৪টি। ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা ছিল ৬টি। মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ছিল ২৬টি। চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ছিল ২৮টি। সম্পত্তি দখলের ঘটনা ছিল ১৫টি। অন্যান্য হামলা, ধর্মীয় উসকানি ও হুমকির ঘটনা ছিল ১৭টি। সব মিলিয়ে ২৯টি স্বতন্ত্র জেলা এই সহিংসতার আওতায় এসেছে। কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা রেকর্ড করা হয়েছে–মার্চে চা ব্যবসায়ী হত্যা, এপ্রিলে রামুতে বৃদ্ধ জবাই, নয়ন দাশ পুড়িয়ে হত্যা এবং হোটেলে অর্ধগলিত মরদেহ–এক জেলায় তিন মাসে চারটি হত্যা। চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ আটটি ঘটনা ঘটেছে–হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাগরিকা ও ফটিকছড়ি–প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বগুড়া ও গাইবান্ধায় উত্তরাঞ্চলের সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যেখানে ৫০০ টাকার হত্যা থেকে শুরু করে নারীর প্রতি পুলিশি লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরা-খুলনা-যশোর অঞ্চলে চুরি, ডাকাতি ও জমি দখলের ঘটনা বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। ছবিঃ সংগৃহীত

এই ১১২টি ঘটনার বিশ্লেষণ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। প্রথমত, সহিংসতার কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম নেই–ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল, প্রতি মাসেই ঘটনা ঘটেছে, শুধু ধর্মীয় উৎসব বা রমজান-ঈদ নয়, যেকোনো দিন, যেকোনো জায়গায়। দ্বিতীয়ত, ভুক্তভোগী কেবল সাধারণ মানুষ নন–মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ সদস্যের পরিবার, কাস্টমস কর্মকর্তা–সকলেই লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। তৃতীয়ত, প্রতিবেশী দ্বন্দ্বের চেয়ে পরিকল্পিত নৃশংসতাই বেশি দেখা গেছে–গণধর্ষণ, পুড়িয়ে হত্যা, গলা কেটে লাশ ফেলা, মরদেহ গাছে ঝোলানো–এই পদ্ধতিগুলো সাধারণ প্রতিবেশী দ্বন্দ্বের নয়।

তিন মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক বিবৃতি দিলেও কোনো জরুরি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। পুলিশ ও র্যাব কিছু মামলায় অগ্রগতি জানিয়েছে–যেমন হবিগঞ্জের ইসকন মন্দিরের পরিকল্পিত হামলায় কিশোর গ্রেপ্তার এবং কুমিল্লার বুলেট হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি–কিন্তু অধিকাংশ ঘটনাতেই তদন্ত অসম্পূর্ণ। ভোলার গণধর্ষণ, চন্দনাইশে বৃদ্ধ হত্যা, পিরোজপুরের গলাকাটা মরদেহ, কক্সবাজারের নয়ন দাশ হত্যা–এসব মামলায় এখনো মূল আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা পরিস্থিতির তীব্র অবনতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। ইউএসসিআইআরএফ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে স্পেশাল ওয়াচ লিস্টে রাখার সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারত সরকার নয়ন দাশ হত্যার পর কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানালে বাংলাদেশ তা অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ আখ্যা দেয়।

১১২টি ঘটনা, ২৯টি জেলা, ২০টি হত্যা, ৬টি ধর্ষণ–এ সংখ্যা আর কেবল পরিসংখ্যান নয়। এটি প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারের চিৎকার, প্রতিটি মন্দিরের ভাঙা প্রতিমা, প্রতিটি জমি হারানো বিধবার অশ্রু। এপ্রিল শেষ হয়েছে, কিন্তু মে চলছে। খবরের কাগজে প্রতিদিন নতুন ঘটনার শিরোনাম আসছে। প্রশ্নটি আর নেই যে সহিংসতা কেন হচ্ছে–প্রশ্নটি এখন, রাষ্ট্র কেন থামাতে পারছে না?

সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তার নামে ক্ষমতায় থাকা সরকারি দল বারবার শুধু ফাঁকা শপথই দিয়েছে, সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। এখনই সময় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার। প্রতিটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় স্পিড ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে রায় নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার প্রতিটি থানায় সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ডেস্ক চালু করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ক্রাইম রিপোর্টে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শিরোনামে আলাদা বিভাগ সৃষ্টি করতে হবে। জেলা প্রশাসক ও আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বিশেষ ভূমি ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক সংখ্যালঘু অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা জাতীয় কমিশন গঠন, স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক বহুত্ববাদ ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা শিক্ষা, এবং সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সংখ্যালঘুদের জন্য বর্তমান কোটার বাস্তবায়ন নিরীক্ষা জরুরি।

 

-ওটিএন বাংলা
তথ্য: সনাতনী রিসার্চ অ্যান্ড আইটি লিমিটেড
মে ২০২৬

প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য সনাতনী রিসার্চ অ্যান্ড আইটি লিমিটেডের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল ২০২৬-এর যাচাইকৃত ঘটনাপুঞ্জের ভিত্তিতে প্রস্তুত। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদন হালনাগাদযোগ্য।

OTN Bangla – সত্যের পথে, নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতিতে

এই শাখার আরও খবর

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ রবিবার

মেলবোর্ন, ২ মে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য (এমপি) আগামী রবিবার (৩ মে) শপথ গ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়…

ফিক্সিং ঠেকাতে ডিপিএলের ড্রেসিংরুমে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

মেলবোর্ন, ২ মে- দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) শুরুর আগে ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট…

কারাবন্দি থেকে গৃহবন্দি হলেন সু চি

মেলবোর্ন, ২ মে-  মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। তবে তার পরিবার…

কংগ্রেস এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৮ বিলিয়নের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ২ মে-  মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রায় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা নতুন করে…

ইউনিসেফ বাদে ভ্যাকসিন কেনা, ঝুঁকির সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার

মেলবোর্ন, ২ মে- ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহ বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে…

যুদ্ধ করল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, লাভ চীন-রাশিয়ার

মেলবোর্ন, ২ মে- ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত দুই মাস পেরোলেও স্থায়ী কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে নতুন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au